pytheya.blogspot.com Webutation

৬ মার্চ, ২০১২

Kaba: কাবাগৃহের সংস্কার এবং হজরে আসওয়াদ পুন:স্থাপন।


৬০৫ খ্রীষ্টাব্দে কুরাইশরা কা’বা (Kaba) গৃহের সংস্কার কাজে হাত দিয়েছিলেন। কা’বাগৃহটি নিম্নভূমিতে অবস্থিত থাকায় বর্ষার জলস্রোত প্রবল বেগে তার মধ্যে প্রবেশ করত। এতে গৃহটি প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ত। এই সমস্যা দূরীকরণে এর চারিদিকে একটি প্রাচীর নির্মাণ করা হয়, কিন্তু জলস্রোতের প্রবল বেগ তাও বিধস্ত করে ফেলেছিল। এজন্যে কা’বাগৃহকে নূতন করে সংস্কার করার সঙ্কল্প কিছুদিন হতে কুরাইশ প্রধানদের মনে স্থানলাভ করেছিল। 
কা'বা ১৮৫০ সনে।
কা’বা প্রথমে ছাদ বিশিষ্ট গৃহাকারে নির্মিত হয়নি, চতুর্দিকে প্রাচীর দিয়ে একটা স্থানকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছিল মাত্র। এসময় কোন এক ব্যক্তি প্রাচীর টপকিয়ে কা’বাগৃহে প্রবেশ করে বিগ্রহের বহু মূল্যবান অলঙ্কার চুরি করে নেয়, এতে কা’বার উপরে ছাদ দেবার প্রয়োজনীয়তা কুরাইশদের মনে স্থান লাভ করেছিল। এই প্রাচীর বেষ্টিত স্থানে একটি কূপ ছিল, যাতে পূজার নৈবদ্যাদি নিক্ষেপ করা হত। এই আবর্জনারাশি পঁচে ঐ কূপটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়েছিল। এর উপর আবার কোথা হতে এক বিষধর সাপ এসে ঐ কূপে আশ্রয় নেয়, যাকে মাঝে মাঝে প্রাচীরের উপর চলতে ফিরতে দেখা যেত। এতে লোকদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি হল। এসময় একদিন কোথা হতে এক বাজপাখি ছোঁ মেরে সাপটিকে নিয়ে গেল। এতে সকলে মনে করলেন তারা কা’বা সংস্কারের যে সঙ্কল্প করেছেন, সেই পূণ্যফলে দেবতা সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তাই তিনি এই সর্পভীতি হতে তাদের পরিত্রাণ দিয়েছেন। 
সকল কুরাইশ বংশ কা’বা সংস্কারের দৃঢ় সঙ্কল্প ব্যক্ত করলেন। এসময় তারা জেদ্দা বন্দরে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রীক জাহাজের সংবাদ পেয়ে লোক পাঠিয়ে সেখান থেকে তক্তা ক্রয় করে নিয়ে এলেন। ফলে সকল গোত্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংস্কারের কাজ পূর্ণ উদ্যমে শুরু হল।

হজরে আসওয়াদ পুন:স্থাপন।
এই কাজ চলাকালে সংস্কারে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে হজরে আসওয়াদ (কৃষ্ণবর্ণের পাথর) যা কা’বাগৃহের প্রাঙ্গনে ছিল, সেটি কা’বাগৃহের
মধ্যে স্থাপন করা নিয়ে এমন একটি বিবাদের সূত্রপাত হল, যার ফলে ভয়ানক রক্তপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারই এই সম্মানীয় কাজটি সম্পাদন করার কৃতিত্বের দাবীদার হতে চাইলেন। অবশেষে মুহম্মদের ক্ষিপ্র হস্তক্ষেপের ফলে এই বিবাদের সন্তোষজনক সমাধান ঘটেছিল। তিনি একখানি চাদর বিছিয়ে তার ওপর হজরে আসওয়াদটি রাখলেন এবং প্রত্যেক গোত্রের নির্বাচিত জন চাদরটির প্রান্ত ধরে কা’বাগৃহের মধ্যে নিয়ে গেলেন। অতঃপর মুহম্মদ পাথরটিকে যথাস্থানে রাখলেন।
ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের মধ্যে চিরাচরিত পদ্ধতি ছিল যে, প্রান্তরে বা অন্য কোথাও উপাসনা বা উৎসর্গের স্থান মনোনীত হলে সেখানে তারা চিহ্নস্বরূপ একখানা প্রস্তর স্থাপন করত। কা’বাগৃহের ভিত্তি স্থাপনের পর ইব্রাহিম ও ইসমাইল যথানিয়মে সেখানেও একখানা  প্রস্তর রেখেছিলেন। প্রস্তরখানা ঘোর কৃষ্ণবর্ণের হওয়ায় শেষে তা হজরে আসওয়াদ নামে খ্যাত হয়। বংশের আদি পুরুষের স্মৃতিফলক মনেকরে আরবরা স্বভাবতঃই ঐ কৃষ্ণ প্রস্তরের সমাদর করত। কিন্তু ঘোর পৌত্তলিকতার যুগেও কখনই তার কোন প্রকার পূজা হয়নি। আর তাই বিগ্রহদের আসনের ত্রিসীমানায় তার স্থান হয়নি। এ কারণে মক্কা বিজয়ের পর যখন দেব বিগ্রহগুলিকে কা’বা হতে অপসারণ করা হয় তখন এই পাথরখন্ডকে অপসারণ করা আবশ্যক বলে কেউই মনে করেনি।

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন