pytheya.blogspot.com Webutation

৯ মার্চ, ২০১২

Pharaoh: পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক অনির্ধারিত বৈঠক।


মূসার বিজয়লাভে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ফেরাউন (Pharaoh) রাজদরবারে একটি অনির্ধারিত আলোচনা সভা বসল। এসময় কিবতী সম্প্রদায়ের প্রধানগণ ফেরাউনকে বললেন, ‘আপনি কি মূসা ও তার দলবলকে রাজ্যে অনাসৃষ্টি করতে দেবেন, না আপনাকে ও আপনার দেবতাদেরকে বর্জন করতে দেবেন?’
ফেরাউন বললেন, ‘তাদের চেয়ে আমাদের জোর অনেক বেশী, আমরা ওদের পুরুষদেরকে হত্যা করব আর ওদের মহিলাদেরকে বাঁচিয়ে রাখব। হে পরিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন উপাস্য আছে বলে তো জানিনে!’ 

সকলে চুপচাপ চিন্তিত। ফেরাউন পরিষদবর্গকে লক্ষ্য করে পুনঃরায় বললেন, ‘আমাকে অনুমতি দাও, আমি মূসাকে খুন করি, আর তখন সে তার প্রতিপালকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুক। দেখি তার প্রতিপালক তাকে কি করে রক্ষা করে। নইলে আমার আশঙ্কা সে তোমাদের ধর্মকে পাল্টে দেবে বা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে।’

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ-ফেরাউন সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলল, ‘আপনি কি মূসা ও তার দলবলকে রাজ্যে অনাসৃষ্টি করতে দেবেন, না আপনাকে ও আপনার দেবতাদেরকে বর্জন করতে দেবেন?’
সে (ফেরাউন) বলল, ‘তাদের চেয়ে আমাদের জোর অনেক বেশী, আমরা ওদের পুরুষদেরকে মেরে ফেলব আর ওদের মহিলাদেরকে বাঁচিয়ে রাখব।’
ফেরাউন বলল, আমাকে অনুমতি দাও, আমি মূসাকে খুন করি, আর তখন সে তার প্রতিপালকের আশ্রয় প্রার্থনা করুক। আমার আশঙ্কা সে তোমাদের ধর্মকে পাল্টে দেবে বা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে।’(৪০:২৬)
ফেরাউন বংশীয় এক মুমিন (বিবি আছিয়া) যিনি তার ঈমান এতদিন গোপন রেখেছিলেন, তিনি কাছেই উপবিষ্ঠ ছিলেন। এখন মূসাকে হত্যার ফেরাউনের এই পরিকল্পনা শুনে তিনি বললেন, ‘তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার কাছ থেকে স্পষ্ট প্রমানসহ তোমাদের কাছে আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যেবাদীই হয়, তবে তার মিথ্যেবাদীতা তার উপরেই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলেছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যেবাদী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শণ করেন না।’ 

অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে উপস্থিত লোকদেরকে বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আজ এ দেশে তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে রক্ষা করবে?’
ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে বললেন, ‘আমি যা বুঝি তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই দেখাই।’

মুমিন (বিবি আছিয়া) বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায় সমূহের মতই বিপদসঙ্কূল দিনের আশঙ্কা করি যেমন নূহের সম্প্রদায়, আদ, সামুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করার ইচ্ছে করেন না। হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক-ডাকের দিনের আশঙ্কা করি, যেদিন তোমরা পিছন ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে তোমাদের রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথপ্রদর্শক নেই। 

ইতিপূর্বে ইউসূফ তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ ইউসূফের পর আর কাউকে রসূল করে পাঠাবেন না। এমনিভাবে আল্লাহ সীমালঙ্ঘণকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন। যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের এই কাজ আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী- স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।’

ফেরাউন বললেন, ‘হে হামান, তুমি আমার জন্যে ইট পোড়াও আর এক মস্ত উঁচু প্রাসাদ বানাও যেন সেখান থেকে আমি মূসার উপাস্যকে উঁকি মেরে দেখতে পাই। তবে, আমি তো মনেকরি সে মিথ্যে বলছে।’

মুমিন (বিবি আছিয়া) বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শণ করব। হে আমার সম্প্রদায়, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ। যে মন্দ কর্ম করে সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বেহিসাব রিজিক দেয়া হবে।’

এসময় কিবতীদের কিছু চিৎকার করে বলল, ‘ফেরাউনই আমাদের রব। আর আমাদের রয়েছে দেবতাসমূহ। আমরা তাদেরকেই মানি। আর তোমাকেও তাদের দিকে এবং আমাদের সমাজে ফিরে আসতে হবে।’

মুমিন (বিবি আছিয়া) বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে ডাক দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে! তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমতাশীল আল্লাহর দিকে। এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, ইহকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই। আমাদের প্রত্যাবর্তণ আল্লাহর দিকে এবং সীমালঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামী। আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।’

এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াতসমূহ- ফেরাউন গোত্রের এক মুমিন যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, ‘তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার কাছ থেকে স্পষ্ট প্রমানসহ তোমাদের কাছে আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যেবাদীই হয়, তবে তার মিথ্যেবাদীতা তার উপরেই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলেছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যেবাদী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শণ করেন না। হে আমার সম্প্রদায়! আজ এ দেশে তোমাদেরই রাজত্ব, দেশময় তোমরাই বিচরণ করছ; কিন্তু আমাদের আল্লাহর শাস্তি এসে গেলে কে আমাদেরকে রক্ষা করবে?’
ফেরাউন বলল, ‘আমি যা বুঝি তোমাদেরকে তাই বোঝাই, আর আমি তোমাদেরকে মঙ্গলের পথই দেখাই।’

সে মুমিন বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায় সমূহের মতই বিপদসঙ্কূল দিনের আশঙ্কা করি। যেমন, নূহের সম্প্রদায়, আদ, সামুদ ও তাদের পরবর্তীদের অবস্থা হয়েছিল। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করার ইচ্ছে করেন না। হে আমার  সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে প্রচন্ড হাঁক ডাকের দিনের আশঙ্কা করি, যেদিন তোমরা পিছন ফিরে পলায়ন করবে; কিন্তু আল্লাহ থেকে তোমাদের রক্ষাকারী কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার কোন পথ প্রদর্শক নেই। ইতিপূর্বে ইউসূফ তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল, অতঃপর তোমরা তার আনীত বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে। অবশেষে যখন সে মারা গেল, তখন তোমরা বলতে শুরু করলে, আল্লাহ ইউসূফের পর আর কাউকে রসূল করে পাঠাবেন না। এমনিভাবে আল্লাহ সীমালঙ্ঘণকারী, সংশয়ী ব্যক্তিকে পথভ্রষ্ট করেন। যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একাজ আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী- স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।’
ফেরাউন বলল, ‘হে হামান, তুমি আমার জন্যে ইট পোড়াও আর এক মস্ত উঁচু প্রাসাদ বানাও যেন সেখান থেকে আমি মূসার উপাস্যকে উঁকি মেরে দেখতে পাই। তবে, আমি তো মনেকরি সে মিথ্যে বলছে।’...

মুমিন বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শণ করব। হে আমার সম্প্রদায়, পার্থিব এ জীবন তো কেবল উপভোগের বস্তু, আর পরকাল হচ্ছে স্থায়ী বসবাসের গৃহ। যে মন্দ কর্ম করে সে কেবল তার অনুরূপ প্রতিফল পাবে, আর যে পুরুষ অথবা নারী মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তথায় তাদেরকে বেহিসাব রিজিক দেয়া হবে। হে আমার সম্প্রদায়, ব্যাপার কি, আমি তোমাদেরকে ডাক দেই মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও জাহান্নামের দিকে। তোমরা আমাকে দাওয়াত দাও, যাতে আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে শরীক করি এমন বস্তুকে, যার কোন প্রমাণ আমার কাছে নেই। আমি তোমাদেরকে দাওয়াত দেই পরাক্রমশালী, ক্ষমতাশীল আল্লাহর দিকে। এতে সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে দাওয়াত দাও, ইহকালে ও পরকালে তার কোন দাওয়াত নেই। আমাদের প্রত্যাবর্তণ আল্লাহর দিকে এবং সীমালঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামী। আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা একদিন তা স্মরণ করবে। আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।’(৪০:২৮-৪৪)

ফেরাউন মূসাকে হত্যা করার চিন্তা করলেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে তার পরিষদবর্গ কখনও ঐ প্রস্তাবে সমর্থন দেয়নি। কারণ ইস্রায়েলীদের একাংশ তাকে নবী হিসেবে মানত এবং তাকে অনুসরণ করত। তাই এসময় ফেরাউন উঠে দাঁড়িয়ে তার সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! মিসর রাজ্য কি আমার নয়? এ নদীগুলো যে আমার পায়ের নীচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে, তোমরা কি তা দেখছ না? এ হতচ্ছড়া, যে কিনা পরিস্কার করে কথা বলতে পারে না, তার চেয়ে কি আমি ভাল নই? (সে নবী হলে) কেন তাকে সোনার বালা দেয়া হল না, কেনই বা ফেরেস্তা তার সঙ্গে আসে না?’ 

এভাবে ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে বোকা বানালেন। ফলে ওরা তার কথা মেনে নিল। ওরা তো ছিল এক সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।(৪৩:৫১-৫৪)

অন্যদিকে তিনি বিবি আছিয়ার মনোভাব জানার পর তাকে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করলেন। তিনি তার কর্মচারীদেরকে নির্দেশ দিলেন, ‘একটি বৃহৎ প্রস্তরখন্ড উঠিয়ে তার মাথার উপর ছেড়ে দাও।’ 

যখন এই রায় কার্যকরী হচ্ছিল তখন বিবি আছিয়া আল্লাহর উদ্দেশ্যে বললেন, ‘হে আমার পালনকর্তা! আপনার সন্নিকটে জান্নাতে আমার জন্যে একটা গৃহ নির্মাণ করুন, আমাকে ফেরাউন ও তার দুস্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন এবং আমাকে জালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিন।’(৬৬:১১)
সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন