pytheya.blogspot.com Webutation

৭ মার্চ, ২০১২

Muhammad: জাদু-টোনা নবী মুহম্মদের উপরও কার্যকরী হয়েছিল।

Black magic বা কালো জাদু বলতে বোঝায় শয়তানি ও স্বার্থপরতার উদ্দেশ্যে অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার।সাধারণত: কারো ভালবাসা পেতে, কাউকে গন্ডিবদ্ধ বা ক্রীড়ানড়ক করতে, বাণ মেরে বা অভিশাপ দিয়ে কারও অমঙ্গল করতে, অন্যের করা অমঙ্গল বাইন্ডিং স্পেল দিয়ে অকার্যকর করতে বা তার অমঙ্গল তাকেই ফিরিয়ে দিতে, মৃতের সাথে যোগাযোগে, এমন কি অমরত্ব লাভে বা স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও মানুষ ব্লাক ম্যাজিকের আশ্রয় নিয়ে থাকে।

ব্লাক ম্যাজিক করা হয় শয়তান জ্বিণের সাহায্যে মূলত: কারো অমঙ্গল ও অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে। ফলে মানুষ এ বিদ্যার চর্চায় উৎসাহী হয়ে ওঠে। নবী মূসার সময়ে এ বিদ্যা বহুল চর্চিত হত মিসর ও ব্যাবিলনে। কিন্তু মূসার কাছে যাদুকরদের নেতাদ্বয় পরাজিত ও মুসলমান হয়ে গেলে চর্চা কিছুটা হ্রাস পায়। তাছাড়া সেইসময় তাওরাত এ জাদুর চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে শয়তানি বা ধর্মবহির্ভূত ঘোষণা করায় মূলত: ডাইনীবিদ্যা এবং অ-মূলধারার গুপ্তবিদ্যার চর্চা, অনুশীলন ও গবেষণা নিষিদ্ধ হয়। তাওরাত এসব নিষিদ্ধ ও চর্চাকারীর জন্যে কঠোর পার্থিব শাস্তির পাশাপাশি মানুষকে পরকাল বরবাদ হওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে। শাস্তির বিষয়ে তাওরাতে বলা হয়-


“মায়াবিনী কিম্বা গণকবিদ্যা ব্যবহার কোরও না। মায়াবিনী মৃত্যুদন্ডের সাজা পাবে।”

“জ্যোতিষ বা গণকের কাছে ভাগ্য অন্বেষণে যাবে না। ”
“পুরুষ কিম্বা স্ত্রীলোকের মধ্যে যে কেউ ভূতাড়িয়া বা গুণী হয়, তার প্রাণদন্ড হবে। লোকে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবে এবং তার রক্ত তারই উপর বর্তিবে।” 

আর তাই এ নির্দেশ পালিত হতে লাগলে এ জাদুর চর্চা অনেকটা কমে যায়। কিন্তু নবী শলোমনের সময় তা আবার বৃদ্ধি পায়।


জাদুর প্রভাব নবী শলোমনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে, তিনি কিছুকালের (৪০ দিন) জন্যে রাজ্য হারিয়ে ফেলেন। অত:পর যখন রাজ্য ফিরে পান, তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে সকল জাদুর কিতাব সংগ্রহ করে তার সিংহাসনের নীচে পুঁতে ফেলেন। তারপর অনুগত জ্বিণের মাধ্যমে পতিত ফেরেস্তা হারুত-মারুতকে সনাক্ত করে তাদেরকে বাবিল শহরের একটা কূপে বন্দী করে ফেলেন যেন তাদের কারও দ্বারা জাদুর বংশবিস্তার আর না হতে পারে। কথিত আছে- তারা সেখানেই বন্দী অবস্থায় কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে।


যারা জাদু অবলম্বণ করে তাদের জন্যে পরকালে কোন অংশ নেই। তাই জাদুর স্বরূপ এবং জাদুকরদের মুখোস উন্মোচনের জন্যে আল্লাহ ইতিপূ্ের্বে ফেরেস্তা হারুত-মারুতকে কিছু যাদুবিদ্যার জ্ঞান দিয়েছিলেন। কেননা, এই হারুত-মারুত ফেরেস্তাদ্বয় শাস্তিস্বরূপ মানুষরূপে মানুষের মাঝে বসবাস করছিল। আর তাদের কোন নির্দিষ্ট কাজও ছিল না। যা হোক, মূল কথা হারুত-মারুত দুনিয়াতে মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত শুধুমাত্র মানুষকে সতর্ক করতে যাতে তাদের বিভ্রান্তি দূর হয় এবং যেন তারা জাদুর প্রাকটিস ও জাদুকরদের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে। 


ইচ্ছে করলে আল্লাহ এই কাজে পয়গম্বরদেরকে নিয়োজিত করতে পারতেন। কিন্তু তাতে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ আরও বিভ্রান্তিতে পড়ত। তাই আল্লাহ পয়গম্বরদের ও জাদুকরদের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে তৃতীয় এবং নিরপেক্ষ পক্ষ ফেরেস্তাদেরকেই এই কাজে নিয়োগ করাকে সমীচীন মনে করেছেন যাতে মানুষের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মানুষ হারুত-মারুতের কাছ থেকে শিখে নেয়া জাদু অকল্যাণের কাজে লাগাচ্ছিল। অবশ্য হারুত-মারুত -'আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা আমাদেরকে অবিশ্বাস কোরও না’-এ কথা না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 


এদু’জনের কাছ থেকে লোকেরা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত, তথাপি আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, কোন উপকারে আসত না। যা হোক, এই পতিত ফেরেস্তাদ্বয়ের কারণে বাবিল ও সাবা নগরীতে এই বিদ্যার প্রচলন ও ব্যবহার বহূলরূপে বৃদ্ধি পেয়েছিল।যাহোক, নবী শলোমনের কঠোরতার কারণে কাল জাদুর চর্চা কমে যায়। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অন্যরকম হয়। শয়তান জ্বিণেরা তার সিংহাসনে নীচ থেকে জাদুর কিতাবসমূহ বের করে এনে প্রচার করে যে, সেগুলো শলোমনের উপর অবতীর্ণ কিতাব যা তিনি তাদের নিকট থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর ঐ জাদুর কিতাবের সাহায্যেই তিনি রাজ্য পরিচালনা ও পশু-পক্ষী বশীভূত করেছিলেন। 


জাদু করা কূফর। আর তাই কোরআন শলোমনের জাদু দ্বারা রাজ্য শাসনের কথা অস্বীকার করে এবং হারুত-মারুত ও তাদের জাদুর স্বরূপের সঠিক তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরে- ‘আর শলোমনের রাজত্বে শয়তানেরা যা আওড়াত তারা (সাবাবাসীরা) তা মেনে চলত। শলোমন কূফর করেনি, বরং শয়তানই কূফর করেছিল। তারা মানুষকে শিক্ষা দিত (সেই) জাদু যা বাবিল শহরের দুই ফেরেস্তা হারুত ও মারুতের উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই ‘আমরা তো তোমাদের উপর পরীক্ষা স্বরূপ। তোমরা অবিশ্বাস কোরও না’-এ না বলে তারা কোন মানুষকে শিক্ষা দিত না। 


এ দু’জনের কাছ থেকে তারা এমন বিষয় শিক্ষা করত যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারত শুধু, আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কারও কোন ক্ষতি করতে পারত না। তাই তারা যা শিক্ষা করত তা তাদের ক্ষতিসাধনই করত, কোন উপকারে আসত না। আর তারা ভাল করেই জানত যে, যে-কেউ তা কিনবে পরকালে তার কোন অংশ নেই। আর যদি তারা জানত তারা যার বিনিময়ে নিজেদের বিক্রি করছিল তা কত নিকৃষ্ট! -(২:১০১-১০২)


যা হোক, মূল কাহিনীতে ফিরি- জনৈক ইহুদি বালক নবী মুহম্মদের  (Muhammad) খুঁটিনাটি কাজকর্ম করত। ইহুদি লবীদ ইবনে আ‘সাম বালকটির মাধ্যমে মুহম্মদের ব্যাবহৃত একটি চিরুণী হস্তগত করতে সক্ষম হয়েছিল। অতঃপর তার কন্যারা একটি তাঁতের সূতায় এগারটি গ্রন্থি লাগিয়ে প্রত্যেক গ্রন্থিতে একটি করে সূঁচ সংযুক্ত করে তাতে ফুঁক দিয়ে দিল। তখন লবীদ সবকিছু একটা খেঁজুর ফলের আবরণীর মধ্যে রেখে সেটি একটি কূপে নিক্ষেপ করে এল।


এদিকে নবীজী জাদুর প্রভাবে মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে পড়তে লাগলেন এবং যে কাজটি করেননি তাও করেছেন বলে অনুভব করতে লাগলেন। প্রায় ছ‘মাস এই অবস্থায় কাটল। এ সময় পর্যন্ত জিব্রাইল তার কাছে কোন ওহী নিয়ে আগমন করেনি। 


একদিন নবী স্বপ্নে দেখলেন দু‘ব্যক্তি তার কাছে এল। তাদের একজন তার শিয়রে বসল ও অন্যজন পায়ের কাছে। শিয়রে উপবিষ্ট ব্যক্তি অন্যজনকে বলল, ‘তার অসুখটা কি?’

সে বলল, ‘ইনি জাদুগ্রস্থ।’
প্রথম ব্যক্তি বলল, ‘কে জাদু করল?’
সে বলল, ‘ইহুদিদের মিত্র লবীদ ইবনে আ‘সামের পরিবার।’
প্রথম ব্যক্তি বলল, ‘কি বস্তুতে জাদু করেছে?’
সে বলল, ‘একটি চিরুণীতে।’
প্রথম ব্যক্তি বলল, ‘চিরুণীটি কোথায়?’
সে বলল, ‘খেজুর ফলের আবরণীতে ‘বির যরওয়ান’ কূপে (Well of Dharwan)।’

পরদিন নবীজী লোক পাঠিয়ে কূপ থেকে সেটি উদ্ধার করে আনালেন। অতঃপর যখন তার গ্রন্থিগুলো খুলে দেয়া হল তিনি সুস্থ্য হলেন। এর পরপরই ফালাক ও নাস সূরাদ্বয় অবতীর্ণ হয়- 


বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করেছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে। অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়, গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।-(১১৩:১-৫)

বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা‘বুদের কাছে তার অনিষ্ট থেকে, যে কূ-মন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্যে থেকে অথবা মানুষের মধ্যে থেকে।-(১১৪:১-৬)


অবশ্য অনেকের মতে- Angel Jibra’il informed the Prophet as to what had occurred and came down with the two Sura's, namely Sura al-Falaq and Sura an-Nas. Then the Prophet together with the Companions went to the well and removed the knotted hair. As each verse was recited, the knots untied miraculously. At the eleventh knot, he was relieved from the effects of this black magic. -Ibn Kathir.


যাইহোক, নবী মুহম্মদ যাদুকারী মুনাফেক ঐ ইহুদিকে ভালকরেই চিনতেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যাপারে কারও কাছ থেকে কোন প্রতিশোধ নেবার অভ্যাস তার কোনদিনই ছিল না। তাই আজীবন ঐ ইহুদিকে কিছু বলেননি এবং তার উপস্থিতিতে মুখমন্ডলে কোনরূপ বিরক্তি বা অভিযোগের চিহ্নও ফুটিয়ে তুলেননি। এ ঘটনা অবশ্য আমরা বিবি আয়েশা বর্ণিত নীচের দু'টি হাদিস থেকেও জানতে পারি-


ক). Magic was worked on Allah's Apostle so that he used to think that he had sexual relations with his wives while he actually had not (Sufyan said: That is the hardest kind of magic as it has such an effect). Then one day he said, "O 'Aisha do you know that Allah has instructed me concerning the matter I asked Him about? Two men came to me and one of them sat near my head and the other sat near my feet. The one near my head asked the other. What is wrong with this man?' 


The latter replied, 'he is under the effect of magic.'

The first one asked, 'Who has worked magic on him?' 
The other replied, 'Labid bin Al-A'sam, a man from Bani Zuraiq who was an ally of the Jews and was a hypocrite.' 
The first one asked, 'What material did he use)?' 
The other replied, 'A comb and the hair stuck to it.' 
The first one asked, 'Where (is that)?' 
The other replied, 'In a skin of pollen of a male date palm tree kept under a stone in the well of Dharwan.' 

''So the Prophet went to that well and took out those things and said "That was the well which was shown to me (in a dream) Its water looked like the infusion of Henna leaves and its date-palm trees looked like the heads of devils." The Prophet added, "Then that thing was taken out' 

I said (to the Prophet ) "Why do you not treat yourself with Nashra?" 
He said, "Allah has cured me; I dislike to let evil spread among my people." -(al-Bukhari, V7, 71:660)

খ). Magic was worked on Allah's Apostle so that he began to imagine that he had done something although he had not. One day while he was with me, he invoked Allah and invoked for a long period and then said, "O 'Aisha! Do you know that Allah has instructed me regarding the matter I asked Him about?" 

I asked, "What is that, O Allah's Apostle?" 

He said, "Two men came to me; one of them sat near my head and the other sat near my feet. One of them asked his companion, 'What is the disease of this man?' 

The other replied, 'He is under the effect of magic.' 
The first one asked, 'Who has worked magic on him?" 
The other replied, 'Labid bin A'sam, a Jew from the tribe of Bani Zuraiq.' 
The (first one asked), 'With what has it been done?' 
The other replied, 'With a comb and the hair stuck to it and a skin of the pollen of a male datepalm tree.' 
The first one asked, 'Where is it?' 
The other replied, 'In the well of Dharwan.' 

Then the Prophet went along with some of his companions to that well and looked at that and there were date palms near to it. Then he returned to me and said, "By Allah the water of that well was (red) like the infusion of Henna leaves and its date-palms were like the heads of devils" 

I said, "O Allah's Apostle! Did you take those materials out of the pollen skin?" 
He said, "No! As for me Allah has healed me and cured me and I was afraid that (by Showing that to the people) I would spread evil among them."
Then he ordered that the well be filled up with earth, and it was filled up with earth " -(al-Bukhari, V7, 71:661)

আর নাযিলকৃত সূরা ফালাক ও সূরা নাস সম্পর্কে কথা এই যে, এ দু'টির গুরুত্ব নি:সন্দেহ অনেক। Surah Al-Falaq directs how to seek Divine protection against worldly calamities, and Surah An-Nas tells the way to seek Divine protection against the calamities of the Hereafter. হাফেজ ইবনে কাইয়ূম বলেন- "The benefits and blessings of these two chapters and the people's need towards them is such that no human can become independent of them. These chapters have great effect in removing (the effects of) magic, witchcraft, evil eye and all spiritual and physical calamities."


অবশ্য কোরআনের আরও একটি সূরা অপশক্তির বিরুদ্ধে কাজ করে বলে ঈমাম জাফর সাদিক অভিমত দিয়েছেন। তিনি বলেন, "One who recites Surah al-Jinn many a time will never suffer from the evil eye, magic, and ploys of the Jinn and magicians but will accompany Muhammad. O Lord! I believe in none besides him and I will never turn toward anyone but him.”


ইসলামে জাদু ও জাদুর চর্চা নিষিদ্ধ, যেমন তা নিষিদ্ধ ছিল ইহুদি ও খৃষ্টধর্মে। ফলে তিনটি ধর্মই এ যাবৎকাল ডাকিনী, মায়া ও কাল জাদুর চর্চাকারীদেরকে নিষ্ঠুর হাতে দমন করে এসেছে। রেনেসাঁর সময়েও এ জাদুর চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে শয়তানি বা ধর্মবহির্ভূত বিবেচিত হওয়ায় এসবের চর্চা, অনুশীলন ও গবেষণা নিষিদ্ধ ছিল এবং সেগুলোকে তদন্তের লক্ষ্যবস্তও করা হয়েছিল। উইলিয়াম পারকিন্স পোসথুমোস- ১৬০৮ নির্দেশিকার উল্লেখ করেছেন্: "ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত" সকল ডাইনীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হবে। তিনি এর কোন ব্যতিক্রম রাখেননি এবং এই দন্ডাদেশের আওতায় পড়েছে- "সকল গণনাকারী, ঐন্দ্রজালিক, বাজিকর, জাদুকর, সাধারণভাবে যাদেরকে জ্ঞানী ব্যক্তি বা জ্ঞানী নারী বলা হয়"। অন্যদিকে, যারা চর্চা করে "good Witches যা ক্ষতিকর নয় বরং মঙ্গলকর, যা নষ্ট ও ধ্বংস করে না, বরং রক্ষা ও সহায়তা করে” -তারাও কঠোর শাস্তির অধীন হবে।


যেহেতু ব্লাক ম্যাজিকের উৎপত্তি জ্বিণের আদিম উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, তাই অশরীরি আত্মার ঘনিষ্টতা লাভের জন্য এর চর্চাকারীরা সবসময় আদিম শামানিস্টিক কায়দায় আচার-অনুষ্ঠান করেছে। আধুনিক ব্লাক ম্যাজিকে যে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান গড়ে উঠেছে, তাও মূলত: ডিজাইন করা হয়েছে ঐ একই আচার- অনুষ্ঠানের উপর ভিত্তিতে ঐ একই আত্মাদেরকে আহবান করে চর্চাকারীর জন্য উপকারী ফলাফল সৃষ্টিতে। 


ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের উপর ধর্মপ্রতিষ্ঠানগুলো খড়গহস্ত হওয়ায় ষষ্ঠ ও সপ্তদশ শতকের শিক্ষিত ও উচ্চ শ্রেণীর মাঝে "ন্যাচারাল জাদু" সুপরিচিত হয়ে ওঠে। ফলে জাদু "হোয়াইট ম্যাজিক" ও "ব্লাক ম্যাজিক" দু’ভাগে বিভক্ত হয়, তথাপি এ দুটির মধ্যবর্তী সীমানা দাগ অপরিস্কার ছিল। তবে আধুনিক প্রেক্ষাপটে, এ সীমানা দাগ কিছুটা পরিস্কার এবং সর্বাধুনিক সংজ্ঞাও তাই অনুশীলন চর্চার চেয়ে অভিপ্রায়ের উপর কেন্দ্রীভূত। ফলত: মায়া ও ডাইনীবিদ্যার অনুশীলনকারীদের অনেকে আজ ব্লাক ম্যাজিক চর্চার যে সীমা আছে তা অতিক্রমের অভিপ্রায় থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে চাইছে। তাছাড়া যারা অপরের ক্ষতি বা অমঙ্গল চায়, তারা মূলধারার উইকান গোষ্ঠীর কাছে তেমন একটা গ্রহনীয়ও নয়, কারণ এ্টা এমন একটা যুগ যখন উপকারী জাদু ক্রমশ: সম্পৃক্ত হচ্ছে আধুনিক জ্ঞানবাদে ও আত্মনির্ভর আধ্যাত্মবাদে।

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন