pytheya.blogspot.com Webutation

৪ মার্চ, ২০১২

Lea’an: হেলাল ইবনে উমাইয়া ও তার স্ত্রীর কাহিনী।


‘যারা সম্ভ্রান্ত স্ত্রীলোকদের সম্বন্ধে কুৎসা রটনা করে এবং চারটি প্রমান উপস্থাপন করতে না পারে, তাদেরকে আশিটি দোররা মারবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্যকে সত্য বলে গ্রহণ করবে না, কারণ তারা সীমালংঘনকারী।’(২৪:৪)

এই আয়াত যখন মুহম্মদ মিম্বরে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, তখন উপস্থিত লোকদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হল। তারা বলতে লাগল, ‘কেউ যদি কাউকে ব্যভিচারে লিপ্ত দেখতে পায়, আর চারজন চাক্ষুস স্বাক্ষীকে উপস্থিত করতে না পারে তবে সে ৮০টি দোররা খাবে এবং তার সাক্ষ্য চিরতরে প্রত্যাখ্যাত হবে- এই ভয়ে ব্যভিচারের অভিযোগ উত্থাপন না করে চুপ করে থাকবে। কিন্তু স্বামীর পক্ষে ব্যাপারটি খুবই নাজুক। সে যখন স্বচক্ষে দেখবে অথচ স্বাক্ষী নেই, তখন যদি মুখ খোলে, তবে অপবাদ আরোপের শাস্তি ভোগ করতে হবে; আর যদি মুখ না খোলে, তবে আজীবন মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে এবং জীবন-ধারণও দুর্বিসহ হয়ে পড়বে।’
তারা বলল, ‘হে রসূলুল্লাহ, যতক্ষণে কেউ স্বাক্ষীর খোঁজে বের হবে, ততক্ষণে কি তারা স্ফূর্তির কাজ শেষ করে পলায়ন করবে না?’

কয়েকদিন পর হেলাল ইবনে উমাইয়া সন্ধ্যায় মাঠ থেকে ফিরে এসে স্ত্রীর সঙ্গে বিছানায় একজন পুরুষকে স্বচক্ষে দেখলেন এবং তাদের কথাবার্তা নিজ কানে শুনলেন। কিন্তু তিনি কিছুই না করে রাতটা অতিবাহিত করলেন। সকালে মুহম্মদের কাছে ঘটনা বর্ণনা করলেন। মুহম্মদ খুবই দুঃখিত হলেন এবং ব্যাপারটিকে গুরুতর মনে করলেন।
এদিকে উপস্থিত কয়েকজন আনসার হেলালকে বললেন, ‘এখন তো তোমাকে শরীয়তের আইন অনুসারে ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে এবং তোমার সাক্ষ্য চিরতরে প্রত্যাখ্যাত হবে।’
মুহম্মদও বললেন, ‘এখন হয় চারজন স্বাক্ষী উপস্থিত কর, নয়তঃ শাস্তি অবধারিত।’
তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম আমি আমার কথায় সত্যবাদী। সুতরাং তিনি নিশ্চয়ই আমার পিঠকে শাস্তিমুক্ত করবেন।’

এসময় লে‘আনের (Lea’an) আইন সম্বলিত এই আয়াত নাযিল হল- এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন স্বাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং ৫ম বার বলবে যে, যদি সে মিথ্যেবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যেবাদী এবং ৫ম বার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।(২৪:৬-৯)

এই আয়াত নাযিল হবার পর হেলাল ও তার স্ত্রীকে ডেকে আনা হল। স্ত্রী বলল, ‘আমার স্বামী হেলাল ইবনে উমাইয়া আমার প্রতি মিথ্যে অপবাদ আরোপ করেছেন।’
মুহম্মদ বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে একজন যে মিথ্যেবাদী তা আল্লাহ জানেন। সুতরাং তোমাদের কেউ কি আল্লাহর শাস্তির ভয়ে তওবা করবে এবং সত্য প্রকাশ করবে?’
হেলাল বললেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সত্য কথা বলেছি।’
তখন তিনি তাদের উভয়কে লে‘আন করানোর আদেশ দিলেন।

প্রথমে হেলালকে লে‘আন করান হল। হেলাল চারবার বললেন, ‘আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই সত্যবাদী।’
এসময় মুহম্মদ তাকে বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর। পরকালের শাস্তি অত্যন্ত কঠিন। ৫ম সাক্ষ্যই শেষ এরই ভিত্তিতে ফয়সালা হবে।’
তিনি বললেন, ‘যদি আমি মিথ্যেবাদী হই, তবে আমার উপর আল্লাহর লানত।’

অতঃপর হেলালের স্ত্রীকে লে‘আন করান হল। সে চারবার বলল, ‘আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই সত্যবাদী।’
৫ম সাক্ষ্যের সময় মুহম্মদ বললেন, ‘এই সাক্ষ্যই শেষ। অতএব আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহর শাস্তি ব্যভিচারের শাস্তির চাইতে অনেক কঠোর।’

একথা শুনে সে কসম খেতে ইতস্ততঃ করতে লাগল। এ অবস্থায় কিছুক্ষণ অতিবাহিত হল। অবশেষে সে বলল, ‘আল্লাহর কসম, আমি আমার গোত্রকে লাঞ্ছিত করব না।’
অতঃপর সে ৫ম সাক্ষ্যে বলল, ‘আমার স্বামী সত্যবাদী হলে আমার উপর আল্লাহর লানত।’
লে‘আনের কার্যধারা সমাপ্ত হল এবং মুহম্মদ তাদের বিবাহ নাকচ করে দিলেন। অতঃপর উভয়কে বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে মিথ্যেবাদী তার পরকালের সাজা হবে অত্যন্ত কঠোর, কিন্তু দুনিয়ার সাজা থেকে সে অব্যহতি পেলে।’
উপস্থিত একজন বলল, ‘এখন যদি হেলালের স্ত্রী গর্ভবতী থাকে, তবে সন্তানটির কি হবে?’
মুহম্মদ বললেন, ‘সে গর্ভবতী হয়ে থাকলে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, সে তার সন্তান বলে কথিত হবে- হেলালের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হবে না। আর সন্তানটিকে ধিকৃত করাও যাবে না।’

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন