pytheya.blogspot.com Webutation

৯ মার্চ, ২০১২

Samuel: জন্মবৃত্তান্ত ও শৈশবকাল।



কাজীগণের সময়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং বিশৃঙ্খলপূর্ণ দিনগুলি শেষে বাদশাগণের গৌরবময় সময় এল। শমুয়েল (Samuel) ছিলেন প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি এই দু’য়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছিলেন। তার পিতার নাম ছিল ইলকানা যার দুই স্ত্রী ছিল হান্না ও পনিন্না। পনিন্নার কয়েকজন সন্তান থাকলেও হান্নার কোন সন্তান ছিল না। এই কারণে তার সতীন তাকে টিটকেরী দিত। একটি সন্তানের আশায় ভক্তিমতি হান্না প্রতিদিন ইফ্রয়িমের পার্বত্যঞ্চলে শীলোস্থিত ধর্মধামে প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যেত। নিয়মিত প্রার্থনা শেষে সে খোদার কাছে এভাবে মোনাজাত করত-‘হে সর্বক্ষমতার অধিকারী প্রভু, তুমি যদি তোমার এই দাসীর মনের কষ্টের দিকে চেয়ে দেখ, আর তার প্রতি মনোযোগ দাও এবং যদি তোমার এই দাসীকে একটি পুত্রসন্তান দাও, তবে সারাজীবনের জন্যে আমি তাকে তোমায় দান করব। তার মাথায় কখনও ক্ষুর লাগান হবে না।’ 

বালক শমূয়েলকে ধর্মধামে সমর্পণ।
ধর্মধামে ধর্মীয়গুরু ছিলেন এলি। একদিন এলি যখন উপাসনা গৃহের দ্বারদেশে বসেছিলেন তখন তিনি লক্ষ্য করলেন প্রার্থনার সময় এক স্ত্রীলোকের ঠোঁট নড়ছে কিন্তু কোন শব্দ হচ্ছে না। তিনি বিভ্রান্ত হয়ে তাকে মাতাল ভেবে তিরস্কার করলেন-‘তুমি আর কতক্ষণ নিজেকে মাতাল করে রাখবে? মদ খেয়ে ধর্মধামে আর এসো না।’

এলির কথায় হান্না সম্বিত ফিরে পেল। সে বলল, ‘হে প্রভু! আমি বড় দুঃখীনি, আমি আঙ্গুর রসও খাইনি, মাতালও হইনি। আমি দয়াময় আল্লাহর কাছে অন্তর ঢেলে প্রার্থণা করছিলাম। এই দাসীকে একজন নষ্টা স্ত্রীলোক মনে করবেন না। গভীর দুঃশ্চিন্তায় ও মনের কষ্টে আমি এতক্ষণ প্রার্থনা করছিলাম।’
সবকিছু খুলে বলল হান্না।

একটি পুত্রসন্তানের জন্যে স্ত্রীলোকটির অন্তরের গভীর আকুতির কথা জানতে পেরে এলি তার উক্তির জন্যে ক্ষমা চাইলেন ও তাকে আশীর্বাদ করলেন। 
হান্না বাড়ী ফিরে গেল। 

মাতা শীলোতে এসে পুত্রকে দেখে যেত।
এক বৎসরের মধ্যে হান্না তার প্রার্থনার উত্তর লাভ করল। সে গর্ভধারণ করল এবং নির্দিষ্ট সময়ে একটি পুত্রসন্তান প্রসব করল। সে তার এই পুত্রের নাম রাখল শমুয়েল (খোদার কাছ থেকে যাচঞা করে পাওয়া)। 

বালক শমুয়েল স্তন্যত্যাগ করলে হান্না তার মানত পুর্ণ করল। সে ধর্মধামের কাজের জন্যে এলির সাহায্যকারী হিসেবে এলির হাতে তার সন্তানকে তুলে দিল। আর ধর্মগুরু এলিকে বলল, ‘হে আমার প্রভু! আমিই সেই স্ত্রীলোক, যে এখানে আপনার সামনে দাঁড়িয়ে খোদার কাছে প্রার্থনা নিবেদন করেছিল। আমি এই সন্তানটিকে চেয়েই প্রার্থনা করেছিলাম। আর খোদা তা আমাকে দিয়েছেন। সেজন্যে আমিও একে তাঁর হাতে সমর্পণ করলাম। সে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তাঁরই থাকবে। আর আপনি এসবের স্বাক্ষী রইলেন।’

বালক শমুয়েল এলির সাহচর্যে বয়সের ধাপ অতিক্রম করতে লাগল। আর তার মাতা হান্না যতদিন জীবিত ছিল ততদিন জামা-কাপড় ও উপহারাদিসহ শীলোতে এসে পুত্রকে একনজর দেখে যেত। 

সমাপ্ত।
ছবি: joyfulpapist.wordpressthebiblehistorybooks.wordpress.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন