pytheya.blogspot.com Webutation

১১ মার্চ, ২০১২

Al Quran: অনুভুতি ও নৈতিক বোধের উন্মেষক।


সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ কোরআন (Qur'an) মানুষের অনুভুতির কাছে, তার অন্তর চৈতণ্য ও নৈতিক বোধের কাছে এভাবেই আবেদন রেখেছে- 

এই কোরআন তো বিশ্বজাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফেরেস্তা একে নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার অন্তরে, যাতে তুমি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভূক্ত হও, সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।(২৬:১৯২-১৯৬) এই কোরআন বনি ইস্রায়েলীরা যেসব বিষয়ে মতবিরোধ করে তার অধিকাংশ তাদের কাছে বর্ণনা করে।(২৭:৭৬) 

নিশ্চয় যারা কোরআন আসার পর তা অস্বীকার করে, তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে। এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ। এতে মিথ্যের প্রভাব নেই, সামনের দিক থেকেও নেই এবং পিছনের দিক থেকেও নেই। এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (৪১:৪১-৪২) এই কোরআন মানুষের জন্যে হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্যে সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।(২:১৮৫) 

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে।(৫৬:৭৭-৭৮) এটা লিখিত আছে সম্মানিত, উচ্চ পবিত্র পত্রসমূহে, লিপিকারের হস্তে, যারা মহৎ পূত চরিত্র।(৮০:১৩-১৬) নিশ্চয় এ কোরআন আমার কাছে সমুন্নত অটল রয়েছে লওহে মাহফুজে।(৪৩:৪) আমি সত্যসহ এ কোরআন নাযিল করেছি এবং সত্যসহ এটা নাযিল হয়েছে।(১৭:১০৫) এটা বিশ্ব পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য প্রদর্শণ করবে? এবং একে মিথ্যে বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে?(৫৬:৮০-৮২)

তারা কি লক্ষ্য করে না কোরআনের প্রতি? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরীত্য দেখতে পেত(৪:৮২) এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি। তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্যও রাখে না। তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকেও দূরে রাখা হয়েছে।(২৬:২১০-২১২) আমি জানি যে, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মিথ্যারোপ করবে। নিশ্চয় এটা অবিশ্বাসীদের জন্যে অনুতাপের কারণ। নিশ্চয় এটা নিশ্চিত সত্য।(৬৯:৫১)

আমি তোমার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী রসূলদের প্রতি যারা তার পরে প্রেরিত হয়েছে। আর ওহী পাঠিয়েছি, ঈসমাইল, ইব্রাহিম, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার সন্তানবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ূব, ইউনূচ, হারুণ ও শলোমনের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর কিতাব। এছাড়া এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের ইতিবৃত্ত আমি তোমাকে শুনিয়েছি ইতিপূর্বে এবং এমন রসূল পাঠিয়েছি যাদের বৃত্তান্ত তোমাকে শোনাইনি। আর আল্লাহ মূসার সাথে কথপোকথন করেছেন সরাসরি। সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শণকারী রসূলদের প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলদের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্যে না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রাজ্ঞ। (৪:১৬৩-১৬৫)
আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি। এতে হেদায়েত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদিদের ফয়সালা দিতেন। কেননা তাদেরকে এই  খোদায়ী গ্রন্থের দেখা শোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তারা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিল।.আমি এই গ্রন্থে তাদের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখমসমূহের বিনিময় সমান যখম। অতঃপর যে ক্ষমা করে, সে পাপ থেকে পবিত্র হয়ে যায়। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই অত্যাচারী।

আমি তাদের পিছনে মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি। সে পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিল। আমি তাকে ইঞ্জিল প্রদান করেছি। এতে হেদায়েত ও আলো রয়েছে। এটি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তাওরাতের সত্যায়ন করে, পথপ্রদর্শণ করে এবং এটি আল্লাহভীরুদের জন্যে হেদায়েত ও উপদেশবাণী। ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিৎ, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী ফয়সালা করা। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী।
আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্য গ্রন্থ, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয় বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব তুমি তাদের পারষ্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী ফয়সালা কর এবং তোমার কাছে যে সৎপথ এসেছে তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরও না।
আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি- যাতে তোমাদের যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব দৌঁড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তণ করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।(৫:৪৪-৪৮)

নভঃমন্ডল, ভূ-মন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আমি যথাযথভাবেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যেই সৃষ্টি করেছি। (৪৬:৩) বল, তোমরা আল্লাহর ব্যতিত যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা নভঃমন্ডল সৃষ্টিতে তাদের কি কোন অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর- যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পূজা সম্পর্কেও বেখবর। যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের এবাদত অস্বীকার করবে।(৪৬:৪-৬) এবং যারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের ডাকে, ওরা তো কোন বস্তুই সৃষ্টি করেনা; বরং ওরা নিজেরাই সৃজিত। তারা মৃত প্রাণহীন এবং কবে পুনরুত্থিত হবে জানে না।(১৬:২০-২১)

কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বণ করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন আবার মৃত্যু দান করবেন। পুন:রায় তোমাদেরকে জীবন দান করবেন। অতঃপর তাঁরই প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে।(২:২৮) তিনি তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।(৬:২) 

তারা কি মৃত্তিকা দ্বারা তৈরী উপাস্য গ্রহণ করেছে, যে তারা তাদেরকে জীবিত করবে? যদি নভঃমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে আল্লাহ ব্যতিত অন্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।(২১:২১-২২) আল্লাহ এক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেনঃ এক ব্যক্তির উপর পরস্পর বিরোধী কয়েকজন মালিক রয়েছে, আরেক ব্যক্তির প্রভু মাত্র একজন- তাদের উভয়ের অবস্থা কি সমান?..(৩৯:২৯) নিশ্চয় তোমারও মৃত্যু হবে তাদেরও মৃত্যু হবে। অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা সবাই পালনকর্তার সামনে কথা কাটাকাটি করবে।(৩৯:৩০-৩১)

তারা জ্বীনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; তাদেরকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত তাদের বর্ণনা থেকে। তিনি নভঃমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গিনী নেই? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।(৬:১০০-১০১) 

তারা নারী স্থির করে ফেরেস্তাদেরকে, যারা আল্লাহর বান্দা। তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে?এখন তাদের দাবী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। তারা বলে রহমান আল্লাহ ইচ্ছে না করলে আমরা ওদের পূজা করতাম না। এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। তারা কেবল অনুমানের উপর কথা বলে। আমি কি তাদেরকে কোরআনের পূর্বে কোন কিতাব দিয়েছি, অতঃপর তারা তাকে আঁকড়ে রেখেছে?(৪৩:১৫-২১) 

তারা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে থেকে আল্লাহর অংশ স্থির করেছে। বাস্তবিক মানুষ বড় অকৃতজ্ঞ। তিনি কি তার সৃষ্টি থেকে কন্যাসন্তান গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন পুত্রসন্তান? তারা রহমান আল্লাহর জন্যে যে কন্যাসন্তান বর্ণনা করে, যখন তাদের কাউকে তার সংবাদ দেয়া হয়, তখন তার মুখমন্ডল ভীষণ কাল হয়ে যায় এবং ভীষণ মনঃস্তাপ ভোগ করে। তারা কি এমন কিছু আল্লাহর জন্যে বর্ণনা করে যে, অলঙ্কারে লালিত পালিত হয় এবং বিতর্কে কথা বলতে অক্ষম? 
পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতিত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্ঠতর। তোমরা কি বুঝ না?(৬:৩২) 
যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছিল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছিল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত (২:৮৯) যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এই গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দাও, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে? সুস্পষ্ট মু‘যেজা সহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছে। এরপর তার অনুপস্থিতে তোমরা গো-বৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী।(২:৯১-৯২)

হে আহলে কিতাবীরা, কেন তোমরা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার কর, অথচ তোমরাই তার প্রবক্তা?(৩:৭০) অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি এবং পর্যায়ক্রমে রসূল প্রেরণ করেছি। আমি মরিয়ম তণয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মু‘যেজা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে শক্তি দান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহঙ্কার করেছ। শেষপর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যেবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ।(২:৮৭)

আমি নূহ ও ইব্রাহিমকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছি এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে নবূয়্যত ও কিতাব অব্যাহত রেখেছি। অতঃপর তাদের কতক সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ হয়েছে পাপাচারী। অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরণ করেছি আমার রসূলদেরকে এবং তাদের অনুগামী করেছি মরিয়ম তনয় ঈসাকে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল। আমি তার অনুসারীদের অন্তরে স্থাপন করেছি নম্রতা ও দয়া। আর বৈরাগ্য, সে তো তারা নিজেরা উদ্ভাবণ করেছে; আমি এটা তাদের উপর ফরজ করিনি; কিন্তু তারা এটা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে অবলম্বণ করেছে। অতঃপর তারা যথাযতভাবে তা পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল, আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরস্কার দিয়েছি। আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।(৫৭:২৬-২৭)

তুমি কি তাদেরকে দেখনি যারা কিতাবের কিছু অংশ পেয়েছে- আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের আহবান করা হয়েছিল যাতে তাদের মধ্যে মিমাংসা করা যায়। অতঃপর তাদের মধ্যে একদল তা অমান্য করে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তা এই জন্যে যে, তারা বলে থাকে, দোযখের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্যে স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোঁকা খেয়েছে। কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করব- যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই। আর নিজেদের কৃতকর্ম তারা প্রত্যেকে পাবে- তাদের প্রাপ্য প্রদানে মোটেই অন্যায় করা হবে না। (৩:২৩-২৫)

আবার ইহুদিরা বলে উজায়ের নাকি আল্লাহর পুত্র। আর খ্রীষ্টানেরা বলে মসীহ হচ্ছে আল্লাহর পুত্র। এসব হল ওদের উদ্ভট কথাবার্তা যা ওদের মুখেই শোনা যায়। ..তারা তো আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের পাদ্রী-পুরোহিতদেরকেই পালনকর্তা প্রভুর আসনে বসিয়ে রেখেছে। ওরা তো চায় নিজেদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিবিয়ে ফেলবে।(৯:৩০-৩২) আল্লাহ যদি সন্তান গ্রহণ করার ইচ্ছে করতেন, তবে তার সৃষ্টির মধ্যে থেকে যা কিছূ ইচ্ছে মনোনীত করতেন, তিনি পবিত্র। তিনি আল্লাহ, এক, পরাক্রমশালী।(৩৯:৪) 

আমি তোমাদেরকে পড়ে শুনাই এই সমস্ত আয়াত এবং নিশ্চিত বর্ণনা। নিঃসন্দেহে আল্লাহর কাছে ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে অদমের মত। তাকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন এবং তারপর তাকে বলেছিলেন- ‘হয়ে যাও।’ সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেল। যা তোমার পালনকর্তা বলেন তাই হচ্ছে যথার্থ সত্য। কাজেই তোমরা সংশয়বাদী হইও না।(৩:৫৮-৬০)

যারা বলে, ‘আল্লাহই মরিয়ম পুত্র মসীহ, তারা নিঃসন্দেহে অবিশ্বাসী। অথচ মসীহ বলেছিল, ‘হে বনি ইস্রায়েল! তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপাসনা কর।’ অবশ্য যে কেউ আল্লাহর অংশী করবে নিশ্চয় আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত নিষিদ্ধ করবেন ও আগুনে হবে তার বাসস্থান। আর অত্যাচারীকে কেউ সাহায্য করবে না।’ যারা বলে, ‘আল্লাহ তো তিনের মধ্যে একজন’, তারা নিশ্চয় অবিশ্বাসী। অথচ এক উপাস্য ভিন্ন অন্য কোন উপাস্য নেই। তারা যা বলে তা থেকে নিবৃত্ত না হলে তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাস করেছে তাদের উপর অবশ্যই নিদারুণ শাস্তি নেমে আসবে। তবে কি তারা আল্লাহর দিকে ফিরবে না ও তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে না? আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। 

মরিয়ম পুত্র মসীহ তো কেবল একজন রসূল, তার পূর্বে কত রসূল গত হয়েছে আর তার মাতা সতী ছিল। তারা দু’জনেই খাওয়া দাওয়া করত। দেখ, ওদের জন্যে আমি আয়াত কিরূপ পরিস্কার করে বর্ণনা করি। আরও দেখ, ওরা কিভাবে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।’(৫:৭২-৭৫)
আমি অবশ্যই তাদেরকে জিজ্ঞেস করব যাদের কাছে রসূল প্রেরিত হয়েছিল এবং আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব রসূলদেরকে। অতঃপর আমি স্বজ্ঞানে তাদের কাছে অবস্থা বর্ণনা করব, বস্তুতঃ আমি তো অনুপস্থিত ছিলাম না।(৭:৬-৭আর যখন আল্লাহ বলবেন, ‘হে মরিয়ম পুত্র ঈসা! তুমি কি লোকদের বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার জননীকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর?’

সে বলবে, ‘তুমি মহিমাময়! আমার যা বলার অধিকার নেই তা বলা আমার পক্ষে শোভন না। যদি আমি তা বলতাম তবে তুমি তো তা জানতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি জান, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা তো আমি জানিনে। তুমিই অদৃশ্য সম্বন্ধে ভাল করে জান। তুমি আমাকে যে আদেশ করেছ তা ছাড়া তাদেরকে আমি কিছুই বলিনি। আর তা এই -তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপাসনা কর।’আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কর্মকান্ডের স্বাক্ষী, কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কর্মকান্ডের স্বাক্ষী। তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই দাস আর যদি তাদেরকে ক্ষমা কর তবে তো তুমি শক্তিমান, তত্ত্বজ্ঞানী।’ (৫:১১৬-১১৮)

তারা বলে, ‘তোমরা ইহুদি বা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে।’ তুমি বল, ‘কখনই না; বরং আমরা ইব্রাহিমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।’ তোমরা বল, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।(২:১৩৫)
তোমরা কি বলছ যে, ‘নিশ্চয়ই ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের সন্তানরা ইহুদি অথবা খ্রীষ্টান ছিল?’ তুমি বলে দাও, ‘তোমরা বেশী জান না আল্লাহ বেশী জানেন?’(২:১৪০) 

হে আহলে কিতাবীরা, কেন তোমরা ইব্রাহিমের বিষয়ে বাদানুবাদ কর? অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল তারপরেই নাযিল হয়েছে। তোমরা কি বোঝ না? শোন ইতিপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তাই নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছ? ইব্রাহিম ইহুদি ছিল না এবং নাসারাও ছিল না, কিন্তু সে ছিল হানীফ-অর্থাৎ সব মিথ্যে ধর্মের প্রতি বিমুখ এবং আত্মসমর্পণকারী এবং সে মুশরিক ছিল না। মানুষের মধ্যে যারা ইব্রাহিমের অনুসরণ করেছিল তারা, আর এই নবী এবং যারা এই নবীর প্রতি ঈমান এনেছে, তারা ইব্রাহিমের ঘনিষ্টতম, আর আল্লাহ হচ্ছেন মুমিনদের বন্ধু।(৩:৬৫-৬৮) 

বল, ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন। এখন সবাই ইব্রাহিমের ধর্মের অনুগত হয়ে যাও, যে ছিল একনিষ্ঠভাবে সত্য ধর্মের অনুসারী। সে মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।’(৩:৯৫) যে আল্লাহর নির্দেশের সামনে মস্তক অবনত করে সৎকাজে নিয়োজিত থাকে এবং ইব্রাহিমের ধর্ম অনুসরণ করে- যে একনিষ্ঠ ছিল, তার চাইতে উত্তম ধর্ম কার? আল্লাহ ইব্রাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।(৪:১২৫) 

তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই ইহুদি ও খ্রীষ্টান ব্যতীত আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ বল, ‘তোমরা যদি সত্যি বলে থাক তবে প্রমান হাজির কর।’ না, তারা সত্যি বলেনি, বরং যারা আল্লাহর পথে আহবান করে এবং সঠিক কাজ করে, তারাই তাদের প্রভুর কাছে পুরস্কার পাবে।(৫:১০৫-১০৬)

ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা বলে, ‘আমরা তো আল্লাহরই পুত্র ও তাঁরই বন্ধু।’ তুমি বল, তবে তিনি তোমাদের পাপের বিনিময়ে কেন শাস্তি প্রদান করবেন? বরং তোমরাও অন্যান্য সৃষ্ট মানবের অন্তর্ভূক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছে শাস্তি প্রদান করেন। নভঃমন্ডল ও ভূ-মন্ডল এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তাতে আল্লাহর আধিপত্য রয়েছে এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তণ করতে হবে। 
হে আহলে কিতাবীরা! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমন করেছে, যে পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করে- যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব তোমাদের কাছে সু-সংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক এসে গেছে। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।(৫:১৮-১৯)
হে আহলে কিতাবীরা! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমন করেছে। কিতাবের যে সব বিষয় তোমরা গোপন করতে, সে তার মধ্যে থেকে অনেক বিষয় প্রকাশ করে, এবং অনেক বিষয় মার্জনা করে। তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ। এর দ্বারা আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রদর্শণ করেন এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং সরল পথে পরিচালনা করেন। নিশ্চয়ই তারা অবিশ্বাসী, যারা বলে ‘মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ।’ তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, ‘যদি তাই হয়, তবে বল-যদি আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তার জননী এবং ভূ-মন্ডলে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে তাদেরকে বিন্দুমাত্র বাঁচাতে পারে? নভঃমন্ডল ও ভূ-মন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, সবকিছুর উপর আল্লাহর আধিপত্য। তিনি যা ইচ্ছে সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।’(৫:১৪-১৭)

ইহুদিরা বলে, ‘খ্রীষ্টানেরা কোন ভিত্তির উপরই না।’ এবং খ্রীষ্টানেরা বলে, ‘ইহুদিরা কোন ভিত্তির উপরই না।’ অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল।(২:১১৩) বলে দাও, ‘হে আহলে কিতাবীরা তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তাওরাত ও ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা পুরোপুরি পালন না কর।..’

নিশ্চয় যারা মুসলমান, যারা ইহুদি, ছাবেয়ী বা খ্রীষ্টান, তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর প্রতি, কেয়ামতের প্রতি এবং সৎকর্ম করে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।(৫:৬৮-৬৯) 

শোন হে কিতাবধারীরা! তোমরা ধর্মের ব্যাপারে মোটেই বাড়াবাড়ি কোরও না। আর আল্লাহ সম্পর্কে সত্যি ছাড়া আর কিছুই বোলও না। নিশ্চয়ই মসীহ মরিয়মের পুত্র ঈসা। সে আল্লাহর রসূল ও তার বাণী যা মরিয়মের কাছে পাঠান হয়েছিল তাঁরই তরফ থেকে রূহ হিসেবে। সুতরাং তোমরা সবাই আল্লাহর উপর আস্থাবান হও আর তাঁর রসূলের উপরও। তোমরা এ কথা মোটেও বোলও না তিনজন; এটাকে বাদ দাও..মসীহ তো এ কথায় কোনও রকম কুন্ঠাবোধ করতেন না যে তিনি আল্লাহর বান্দা হিসেবে গণ্য হবেন।(৪:১৭১-১৭২)

কারও পক্ষে একাজটা মোটেই সম্ভব নয়-আল্লাহ তাকে কিতাব, বিধান ও নব্যুয়ত দান করবেন, আর সে মানব সমাজকে বলবে: তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমার বান্দারূপে গন্য হও। বরং তারা বলবেঃ তোমরা আল্লাহর বান্দা হও। কারণ, তোমরা কিতাব শেখাচ্ছ আর তা নিজেরাও যে পড়ছ।(৩:৭৯) 

তারা বলছে, করুণাময় আল্লাহর নাকি সন্তান-সন্তুতি আছে। নিশ্চয়ই তোমরা এভাবে গুরুতর বিষয়ে জড়িয়ে পড়লে। যে কারণে হয়ত এক্ষুণি আসমান ভেঙ্গে পড়বে, পৃথিবী খন্ড খন্ড হয়ে পড়বে, আর পাহাড় পর্বত ধূলি বিলুন্ঠিত হবে। কারণ তারা করুণাময় আল্লাহর নামে সন্তান-সন্তুতি ডাকছে। অথচ তাঁর জন্যে কোন সন্তান-সন্তুতি মোটেই শোভা পায় না। আসমান জমিনে কোথাও এমন কেউ নেই যে-নাকি করুণাময় আল্লাহর বান্দা হিসেবেই আসবে না। (১৯:৮৮-৯৩)

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোন মাবুদ নেই, থাকলে প্রত্যেক মাবুদ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে চলে যেত এবং একজন অন্যজনের উপর প্রবল হয়ে যেত।(২৩:৯১) বল, তাদের কথা মত যদি তাঁর সাথে অন্যান্য উপাস্য থাকত; তবে তারা আরশের মালিক পর্যন্ত পৌঁছার পথ অন্বেষণ করত।(১৭:৪২) 
দেখ, কিভাবে আমি নিদর্শনাবলী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করি। তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে।(৬:৪৬) আর এমনিভাবে আমি নিদর্শণসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি- যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে উঠে।(৬:৫৫)

আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শণ করা। আর আমি মালিক ইহকাল ও পরকালের।() অতএব তারা বাক-বিতন্ডা ও ক্রীড়া কৌতুক করুক সেই দিবসের সম্মুখীণ হওয়া পর্যন্ত, যে দিবসের ওয়াদা তাদের সাথে করা হচ্ছে।(৭০:৪২)

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন