pytheya.blogspot.com Webutation

৯ মার্চ, ২০১২

Moses: মূসার নব্যূয়ত প্রাপ্তি।

একজন মিসরীয়কে হত্যার অপরাধে ফেরাউনের কর্মচারীরা মূসার খোঁজ করছিল। এই কারণে মূসা (Moses) মিসর ত্যাগ করেছিলেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার ফলে এখন সেই আশঙ্কা আর অবশিষ্ট ছিল না। তাই মেয়াদ শেষ করে তিনি শ্বশুর শোয়েবকে বললেন, ‘এখন আমি মিসরে ফিরে যেতে চাই-নিজ পরিবারের কাছে।’
শোয়েব বললেন, ‘তুমি তোমার মেয়াদ পূর্ণ করেছ। সুতরাং এখন আমার বলার তো কিছুই নেই। তুমি যেখানে ইচ্ছে, যখন ইচ্ছে যেতে পার। আমি আনন্দের সাথেই সম্মতি দিলাম।’

শ্বশুরের অনুমতি পাবার পর একদিন স্ব-পরিবারে মূসা মিসরের পথে যাত্রা করলেন। পথিমধ্যে শ্যাম অঞ্চলে দুর্বৃত্তের আশঙ্কা থাকায় তিনি পরিচিত পথ ছেড়ে অখ্যাত পথ অবলম্বণ করলেন। তখন ছিল শীতকাল। স্ত্রী সফুরা ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা, আর তার প্রসবকালও ছিল নিকটবর্তী। পথ হারিয়ে মূসা যখন তূর পাহাড়ের পশ্চিমে ও ডানদিকে চলে এলেন, তখন সন্ধ্যা সমাগত। সুতরাং তিনি একস্থানে তাঁবু টানিয়ে পরিবারসহ আশ্রয় নিলেন। 

তূর পাহাড়ের দিকে আগুন দেখলেন।
কনকনে শীতের রাত। এরই মধ্যে মধ্যরাতে হঠাৎ স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়ে গেল। এসময় স্ত্রীকে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে মূসা আগুন জ্বালাতে চাইলেন। তখনকার দিনে আগুন জ্বালাতে চকমকি পাথর ব্যাবহার করা হত। কিন্তু মূসা এই পাথর ব্যাবহার করে আগুন জ্বালাতে ব্যর্থ হলেন। এই হতবুদ্ধি অবস্থার মধ্যে তিনি হঠাৎ তাঁবুর বাইরে এসে তূর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আগুন দেখতে পেলেন। তখন তিনি তার পরিবারের লোকদেরকে বললেন, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে খবর (পথের সন্ধান) আনতে পারব, কিংবা একখন্ড জলন্ত কাঠ আনতে পারব যেন তোমরা আগুন পোহাতে পার।’

স্ত্রী সফুরা এসময় তাকে কোথাও যেতে দিতে সম্মত ছিল না। তাই সে কম্পিত কন্ঠে তাকে ডাকল। প্রকৃত পক্ষে সে ভীত হয়ে পড়েছিল। মূসা তাঁবুর ভিতরে এলেন। স্ত্রী বলল, 'তোমাকে কোথাও যেতে হবে না। আমার কাছেই থাক।'
মূসা তাকে আশ্বস্ত করতে বললেন, 'একটু অপেক্ষা কর। অবশ্যই আমি আগুন দেখেছি। আমি সেখান থেকে আগুন আনতে পারব বা আগুন থেকে কোন দিশা পাব।'
মূসা তাকে আশ্বস্ত করে তাঁবু থেকে বেরিয়ে এলেন এবং আগুন লক্ষ্য করে তূর পাহাড়ের দিকে এগিয়ে গেলেন।

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- মূসা যখন মেয়াদ শেষ করে সপরিবারে যাত্রা শুরু করল তখন সে তূরপাহাড়ের দিকে আগুন দেখতে পেল। সে তার পরিবারের লোকদেরকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান থেকে তোমাদের জন্যে খবর আনতে পারব, কিংবা একখন্ড জলন্ত কাঠ আনতে পারব যেন তোমরা আগুন পোহাতে পার।’(২৮:২৯) বা আগুন থেকে কোন দিশা পাব।’(১৯:৯)

মূসা সতেজ গাছের উপর
আগুন জ্বলছে দেখলেন।
তারপর যখন মূসা আগুনের কাছে পৌঁছিলেন, তখন এক বিষ্ময়কর দৃশ্য দেখতে পেলেন। তিনি দেখতে পেলেন আগুন দাউ দাউ করে একটি সতেজ ও সবুজ জলপাই বৃক্ষের উপর জ্বলছে কিন্তু আগুনের কারণে গাছের কোন শাখা বা পাতা পুড়ছে না। উপত্যাকার ডানপার্শ্বে পাহাড়ের কোল ঘেষে অবস্থিত এক  বৃক্ষের উপর আগুনের এই বিষ্ময়কর দৃশ্য মূসা কিছুক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে উপভোগ করলেন এবং অপেক্ষা করতে থাকলেন এই ভেবে যে, আগুনের কোন স্ফূলিঙ্গ মাটিতে পড়লে তিনি তা তুলে নেবেন। অনেকক্ষণ অতিবাহিত হবার পরও যখন এমন হল না, তখন তিনি কিছু শুকনো ডাল কুড়িয়ে নিলেন এই ভেবে যে সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে যেন তিনি তা নিয়ে যেতে পারেন। 

অত:পর মূসা যখন বৃক্ষের দিকে আগুনের কাছে এগিয়ে যেতে থাকলেন, তখন ঐ আগুন গাছের এক শাখা থেকে অন্য শাখায় পিছিয়ে গেল। এ দেখে মূসাও পিছিয়ে এলেন তখন আগুন আবার পূর্বের জায়গায় ফিরে এল। মূসা হতভম্ব। এসময় ঐগাছ থেকে তাকে ডাকা হল, ‘হে মূসা!’

এই আওয়াজ চারিদিক থেকে সমভাবে ধ্বনিত হল। তখন মূসা তার চারিদিকে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে বললেন, ‘কে তুমি?’ তাকে বলা হল- ‘আমিই আল্লাহ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক। যারা আগুনের আলোর জায়গায় ও তার চারপাশে আছে তারাই ধন্য। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত। অতএব তুমি তোমার জুতো খুলে ফেল, কারণ তুমি এখন পবিত্র তোয়া উপত্যকায় রয়েছে। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা তুমি মন দিয়ে শোন। 

--আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। অতএব, আমার উপাসনা কর ও আমাকে স্মরণ করে নামাজ কায়েম কর। কেয়ামত ঠিকই আসবে, আমি এর কথা গোপন রাখতে চাই, যেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী ফল লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই সময়ে বিশ্বাস করে না, বরং নিজ প্রবৃত্তি অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে সেই বিশ্বাস থেকে ফিরিয়ে না দেয়, দিলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

--হে মূসা! তোমার দক্ষিণ হস্তে ওটা কি?’ 
মূসা বললেন, ‘এটা আমার লাঠি।’ অত:পর তিনি লাঠির কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বললেন, ‘আমি এর ওপর ভর দিয়ে চলি, আর এদিয়ে ভেড়ার পাতা পাড়ি, আর এছাড়া এর আরও অনেক কাজ আছে।’

মূসার লাঠি।
এই লাঠিটি বেহেস্তী লাঠি ছিল। আদম বেহেস্ত থেকে আসার সময় এই লাঠি সাথে নিয়ে এসেছিলেন। এই লাঠির মাথায় দু‘টি ডালা ছিল। অন্ধকারে ঐ ডালাগুলি থেকে আলো বিচ্ছুরিত হত। আদমের পর লাঠিটি পুরুষানুক্রমে অধঃস্তন ওয়ারিসদের মধ্যে চলে আসতে থাকে। হযরত মূসা, শোয়েবের কন্যা সফুরাকে বিবাহের পর শ্বশুরের কাছ থেকে অন্যান্য জিনিসের সাথে এই লাঠিটিও উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন। প্যালেস্টাইনের উদ্দেশ্যে ইস্রায়েলীদের নিয়ে মিসর ত্যাগের পর যাত্রাপথে মূসার মৃত্যু হলে ইস্রায়েলীরা সাক্ষ্যতাম্বুর সাথে পবিত্র এই লাঠিটিও মাতৃভূমিতে বয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা, তুমি এটা মাটিতে ফেল তো!’
তারপর যখন মূসা সেটা মাটিতে ফেললেন, সঙ্গে সঙ্গে তা সাপের মত ছুটোছুটি করতে লাগল। তারপর যখন সেটা সাপের মত ছুটোছুটি করতে লাগল, মূসা তা দেখে ভয়ে পিছন দিকে না তাকিয়ে উল্টো দিকে দৌঁড়াতে থাকলেন। আল্লাহ তাকে ডেকে বললেন, ‘মূসা, ফিরে এস, ভয় পেয় না। তুমি তো নিরাপদেই আছ।’

ডাক শুনে মূসা থেমে গেলেন। তারপর আস্তে আস্তে ফিরে এলেন। আল্লাহ তাকে বললেন, ‘ও মূসা, ভয় পেয় না। অবশ্যই আমার উপস্থিতিতে রসূলগণ ভয় করে না। যদি কিনা কেউ ভুল করে, তারপর ভুল করে ক্ষমা প্রার্থনা করে- অবশ্যই আমি ক্ষমাকারী এবং দয়ালু।’
তারপর তিনি মূসাকে বললেন, 'এখন তুমি হাত বাড়িয়ে এটার লেজের দিকে ধর, ভয় কোরও না, আমি এটাকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেব।’

তারপর মূসা সেটা ধরলে তা পূর্বাবস্থায় ফিরে এল। আল্লাহ বললেন, 'হে মূসা, এখন তোমার হাত বগলে রাখ। সেটা নির্মল উজ্জল হয়ে বের হয়ে আসবে।’
মূসা হাত বগলে রাখলেন। কিন্তু যখন তিনি তা বের করে আনলেন তখন দেখা গেল তার হাতের উপর যেন তুষারের আস্তর পড়ে গেছে। আল্লাহ বললেন, ‘তোমার হাত আবার ওখানে রাখ।’

মূসা তাই করলেন। আর যখন তিনি হাতটা বের করে আনলেন তখন দেখা গেল তা পূর্বের ন্যায় তার শরীরের অন্যান্য অংশের মত হয়ে গেছে। 
আল্লাহ বললেন, ‘এ দু’টি তোমার প্রতিপালকের দেয়া প্রমাণ, ফেরাউন ও তার প্রধানদের জন্যে। আর যদি তারা তোমাকে অবিশ্বাস করে কিম্বা প্রথম চিহ্নটার কোন মূল্য না দেয় তবে হয়তঃ তারা দ্বিতীয়টায় বিশ্বাস করবে। ওরা অবশ্যই সত্যত্যাগী সম্প্রদায়। সুতরাং ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালংঘন করেছে।’

এতসব আলৌকিক ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকায় আতঙ্কে এসময় মূসার বুক ভীষণভাবে ধড়ফড় করতে লাগল। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, সর্বজ্ঞাতা। তিনি তো সবই জানেন, সবই বুঝেন। সুতরাং তিনি মূসার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বললেন, ‘এবার তোমার হাত দু‘টো বুকের উপর চেপে ধরে ভয় দূর কর।’ 
যখন মূসার ভয় দূর হল, তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও। আর আমার কাজ সহজ করে দাও। আমি তো ঠিকমত কথা বলতে পারিনে। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দাও। যেন ওরা আমার কথা বুঝতে পারে।’

মূসা আরও বললেন, ‘আমার আত্মীয়দের মধ্যে হতে আমার জন্যে একজন সাহায্যকারী দাও। আমার ভাই হারুণকে আমার সাহায্যকারী হিসেবে দাও, যাতে আমারা আমাদের কাজকে ভাগ করে নিতে পারি, আর যাতে আমরা তোমাকে আরও বেশী করে স্মরণ করতে পারি।’

তিনি বললেন, ‘তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল। ও মূসা, আমি তো এর আগেও তোমাকে অনুগ্রহ করেছি, যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, ‘তুমি মূসাকে সিন্দুকে রাখ, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু উঠিয়ে নেবে।’- আমি তোমার প্রতি আমার মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সামনে প্রতিপালিত হও।

--আমি তোমার প্রতি আরও অনুগ্রহ করি, যখন তোমার বোন এগিয়ে গেল এবং বলল, ‘আমি কি আপনাদেরকে এমন কাউকে দেখাব, যে এর দায়িত্ব নেবে?' এভাবে আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম, যেন  সে তৃপ্ত হয় আর দু:খ না করে। তারপর তুমি একজন মানুষকে খুন করেছিলে, আর আমি তোমাকে মানসিক কষ্ট থেকে মুক্তি দেই। তারপর তুমি কয়েক বৎসর মদিয়ানবাসীদের মধ্যে বসবাস করেছিলে। হে মূসা! এরপর তুমি এসেছ নির্ধারিত সময়ে। আর আমি তোমাকে আমার কাজের জন্যেই তৈরী করেছি। তোমার সম্প্রদায়কে অন্ধকার থেকে আলোয় আন। আর ওদেরকে অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দাও।’

মূসা বললেন, ‘আমার ভাই আমার চেয়ে ভাল কথা বলতে পারে, সুতরাং তাকে আমার সাহায্যকারী হিসেবে পাঠাও, সে আমাকে সমর্থন করবে। তবে আমি অবশ্য আশা করছি, ওরা আমাকে মিথ্যেবাদী বলবে।’

তিনি বললেন, ‘আমি তোমার ভাইকে দিয়ে তোমার হাত শক্ত করব আর তোমাদের দু‘জনকে প্রাধান্য দেব। ওরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আমার নিদর্শণের বদৌলতে তোমরা ও তোমাদেরকে যারা অনুসরণ করবে তারাই বিজয়ী হবে।’

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- যখন মূসা আগুনের কাছে পৌঁছিল তখন উপত্যকার ডান পাশের পবিত্র জায়গার একগাছ থেকে তাকে ডেকে বলা হল, ‘মূসা, আমিই আল্লাহ বিশ্বজগতের প্রতিপালক।’(২৮:৩০).. তারপর .. তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হল, ‘যারা আগুনের আলোর জায়গায় ও তার চারপাশে আছে তারাই ধন্য। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।’(২৭:৮) আমিই তোমার পালনকর্তা, অতএব তুমি তোমার জুতা খুলে ফেল, কারণ তুমি এখন পবিত্র তোয়া উপত্যকায় রয়েছে। আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা তুমি মন দিয়ে শোন। আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। অতএব, আমার উপাসনা কর ও আমাকে স্মরণ করে নামাজ কায়েম কর। সময় (কেয়ামত) ঠিকই আসবে, আমি এর কথা গোপন রাখতে চাই, যেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী ফল লাভ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি (সেই) সময়ে বিশ্বাস করে না, বরং নিজ প্রবৃত্তি অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে সেই (বিশ্বাস) থেকে ফিরিয়ে না দেয়, দিলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। হে মূসা! তোমার ডান হাতে ওটা কি?’ 
সে বলল, ‘এটা আমার লাঠি, আমি এর ওপর ভর দিয়ে চলি, আর এ দিয়ে ভেড়ার পাতা পাড়ি, আর এছাড়া এর আরও অনেক কাজ আছে।’
আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা, তুমি এটা ছোড় তো!’

তারপর সে ওটা ছুড়ল, সঙ্গে সঙ্গে তা সাপের মত ছুটোছুটি করতে লাগল।’(২০:১২-২০) তারপর যখন সেটা সাপেরমত ছুটোছুটি করতে লাগল, সে পিছন দিকে না তাকিয়ে উল্টো দিকে দৌঁড়াতে থাকল। তাকে বলা হল, ‘মূসা, ফিরে এস, ভয় পেয় না। তুমি তো নিরাপদেই আছ।’ (২৮:৩১-৩৫) 
(মূসা ফিরে এলে) হে মূসা, ভয় কোরও না। আমি যে রয়েছি, আমার কাছে পয়গম্বরগণ ভয় করে না। তবে যে বাড়াবাড়ি করে এরপর মন্দ কর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে। নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(২৭:১০-১১) ‘তিনি বললেন, ‘তুমি এটাকে ধর, ভয় কোরও না, আমি এটাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেব।’(২০:২১)

তারপর সে সেটা ধরলে তা আগের অবস্থায় ফিরে এল। তখন তিনি বললেন, ‘তোমার হাত বগলে রাখ। সেটা নির্মল উজ্জল হয়ে বের হয়ে আসবে। (এবার) তোমার হাত দু‘টো বুকের উপর চেপে ধরে ভয় দূর কর। এ দু’টি তোমার প্রতিপালকের দেয়া প্রমাণ, ফেরাউন ও তার প্রধানদের জন্যে। ওরা অবশ্যই সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।(২৮:৩২) ফেরাউনের কাছে যাও, সে সীমালংঘন করেছে।(১৯-২৪) 

মূসা বলল, হে আমার পালনকর্তা আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দাও এবং আমার কাজ সহজ করে দাও এবং আমার জিহবা থেকে জড়তা দূর করে দাও। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্য থেকে আমার একজন সাহায্যকারী করে দাও। আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার হাতকে শক্তিশালী কর এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার কর। যাতে আমরা বেশী করে তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষনা করতে পারি এবং বেশী পরিমাণে তোমাকে স্মরণ করতে পারি। তুমি তো আমাদের অবস্থা সবই দেখছ।
 
আল্লাহ বললেন, হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল।আমি তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম। যখন আমি তোমার মাতাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যা অতঃপর বর্ণিত হচ্ছে। যে, তুমি (মূসাকে) সিন্দুকে রাখ, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, অতঃপর দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেবে। তাকে আমার শক্র ও তার শক্র উঠিয়ে নেবে। আমি তোমার প্রতি মহব্বত সঞ্চারিত করেছিলাম আমার নিজের পক্ষ থেকে, যাতে তুমি আমার দৃষ্টির সামনে প্রতি পালিত হও। যখন তোমার ভগিনী এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব কে তাকে লালন পালন করবে। অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মাতার কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং দুঃখ না পায়। তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে এই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেই; আমি তোমাকে অনেক পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ান বাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছিলে; হে মূসা, অতঃপর তুমি নির্ধারিত সময়ে এসেছ। এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি।(২০:২৫-৪১)

মূসা বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমি তাদের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছি। কাজেই আমি ভয় করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে। আমার ভাই হারুণ, সে আমা অপেক্ষা প্রাঞ্জলভাষী। অতএব, তাকে আমার সাথে সাহায্যের জন্যে প্রেরণ কর। সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে। 
আল্লাহ বললেন, আমি তোমার ভাইকে দিয়ে তোমার হাত শক্ত করব আর তোমাদের দু‘জনকে প্রাধান্য দেব। ওরা তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আমার নিদর্শণের বদৌলতে তোমরা ও তোমাদেরকে যারা অনুসরণ করবে তারাই জয়ী হবে।’(২৮:৩৪-৩৫) 

মূসা তার স্ত্রীর কাছে প্রত্যাবর্তণ করলেন। ইতিমধ্যে তার স্ত্রী সফুরা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে এক পুত্রসন্তান প্রসব করে ফেলেছিল এবং মূসার ফিরে আসতে বিলম্ব দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পুনঃ পুনঃ পথের দিকে দৃষ্টিপাত করছিল। 

সমাপ্ত।
ছবি: Myspace, Comicvine, westernhumanities101.pbworks.

1 টি মন্তব্য:

  1. নামহীন১:০৮ pm

    মূসার এই লাঠি সম্পর্কে আকাশ মালিকের এক মন্তব্যে পেলাম নীচের কাহিনী পেলাম, যা পূর্বে কখনও শুনিনি শেয়ার করলাম।

    (এক হুজুরের ওয়াজের ক্যাসেট থেকে) - একদিন আদম দেখলেন, বেহেস্তের এক কোণে তাঁরই মতো কিন্তু তাঁর চেয়ে সুন্দর একটি মানুষ বসে আছেন। বেহেস্তের আয়নায় নিজেকে দেখে আদমের মনে হিংসা ও দুঃখের উদ্রেক হলো। আদমের মন খারাপ দেখে আল্লাহ পাক তার গালে দাঁড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন। আদম তা দেখে বেজায় খুশী হলেন। তাঁর মনে সুন্দর মানুষটিকে ছুঁয়ে দেখার বাসনা জাগ্রত হলো। অমনি আল্লাহর কাছ থেকে নিষেধ আসলো, ‘হে আদম, খবরদার হাওয়াকে ছুঁইওনা, হাওয়ার গায়ে হাত দেয়ার আগে মোহরানা আদায় করতে হবে’।আদম বললেন হে প্রভু, এখানে মোহরানা দেয়ার মতো কিছু যে আমার নাই’। আল্লাহ বললেন, আদম, বেহেস্তের চারিদিকে চেয়ে দেখো’।আদম বললেন, ‘প্রভু দয়াময়, বেহেস্তের চারিদিকে, উপরে নীচে, ডানে বামে, গাছের পাতায় পাতায়, তোরণে তোরণে আপনার নামের পাশে একটা নাম দেখছি, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’।আল্লাহ বললেন, ‘আদম, ঐ নামে দশবার দরুদ শরিফ পড়ো, তোমার মোহরানা আদায় হয়ে যাবে’। আদম তা’ই করলেন, আদম হাওয়ার বিয়ে হয়ে গেলো। আল্লাহ, আদম ও হাওয়াকে গন্ধম বৃক্ষের নিকটে যেতে নিষেধ করলেন। একদিন ইবলিস শয়তান মা হাওয়াকে বললো, ‘দেখো এখান থেকে বহু দূরে আল্লাহ একটি দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে সেখানে পাঠিয়ে দিবেন, সেখানে বেহেস্তের সুযোগ সুবিধে নেই। বেহেস্তে থাকতে হলে তোমাদেরকে গন্ধম বৃক্ষের ফল খেতে হবে’। বেহেস্তে সুখের লোভে বিবি হাওয়া আল্লাহর কথা অমান্য করলেন এবং ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ গাছের নীচে এসে দাঁড়ালেন। হাওয়া লক্ষ্য করলেন, ফলগুলো তাঁর হাতের নাগালের সামান্য বাইরে। তিনি দু পায়ের বুড়ী আঙ্গুলের উপর ভর করে দাঁড়ালেন, অমনি তাঁর পায়ের গোড়ালী থেকে কিছুটা কাপড় উপরে উঠে যায়। হাওয়া মুখ তোলে উপরের দিকে তাকালেন, অমনি তাঁর মুখের ও মাথার কিছুটা কাপড় খোলে যায়। তিনি দুহাত উঁচু করে ফলের দিকে হাত বাড়ালেন, অমনি হাতের কাপড় কনুই পর্যন্ত অনাবৃত হয়ে যায়। সেদিন মা হাওয়ার শরীরের চার যায়গা অনাবৃত হয়েছিল, এ জন্যে সেদিন থেকে জগতের মানুষের জন্যে ওজুর চার ফরজ নির্ধারিত হয়ে যায়। আল্লাহর আদেশ অমান্য করায় বাবা আদম, মা হাওয়ার উপর ভীষণ রাগান্বিত হলেন এবং হাওয়াকে তাঁর অপরাধের শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে পাশের জয়তুন গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে নিয়ে এলেন। এই ভাঙ্গা জয়তুনের ডালটাই ছিল হজরত মুসা নবীর হাতের আশা বা লাঠি, যে লাঠি সর্প হয়ে ফেরাউনের ১২ হাজার বিষাক্ত সাপকে একশ্বাসে গ্রাস করেছিল। সেদিন মুসা নবীর সেই লাঠি ৪০মাইল লম্বা অজগর হয়েছিল, যা দেখে ভয়ে ফেরাউন একদিনে ২০০বার টয়লেট করেছিল।

    উত্তরমুছুন