pytheya.blogspot.com Webutation

৭ মার্চ, ২০১২

Bani Israel: ইস্রায়েলীদের মিসর ত্যাগ।


ফেরাউনের অনুমতি পাবার পর ইস্রায়েলীরা (Bani Israel) এদিনই প্রথম জাতীয় ধর্মীয়ভোজ নিস্তারপর্বের আদেশ পালন করল। তারা পশু উৎসর্গ করল এবং আড়ম্বরের সাথে নিস্তারপর্বের ভোজের আয়োজন করল। 

অত:পর মূসার প্রতি আল্লাহর নির্দেশ এল, ‘আমার দাসদের নিয়ে এই রাতেই বেরিয়ে পড়, আর ওদের জন্যে সাগরের মাঝখানে কোন শুকনো পথ অবলম্বণ কোরও। ভয় পেয় না যে, কেউ পিছন থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলবে, ঘাবড়ে যেও না।’ 

আল্লাহর এই নির্দেশের পর মূসা রাতেই ইস্রায়েলীদের সংগঠিত করে যাত্রার প্রস্তুতি শুরু করলেন। মুক্তির আনন্দে এসময় ইস্রায়েলীরা ছিল উত্তেজিত, উৎকন্ঠিত। তারা তাড়াহুড়ো করে নিস্তার পর্বের ভোজ খেল। তাদের পরনের কাপড় ছিল কোমরে গুটান, পায়ে ছিল জুতা এবং হাতে লাঠি। 

প্রথমেই মূসা কফিনে রক্ষিত ইউসূফের লাশের সন্ধান করলেন। মিসর থেকে চলে যাবার সময় হযরত ইউসূফ তার লাশ সঙ্গে নিয়ে যেতে ইস্রায়েলীদের কাছ থেকে ওয়াদা করিয়ে নিয়েছিলেন। আর মূসা একজন নবী ও রসূল। সুতরাং তিনি পূর্ববর্তী নবীদের বৃত্তান্ত এবং তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক সচেতন ছিলেন। 

ইউসূফের লাশের কফিনটি খূঁজে পেতে মূসাকে নানাবিধ বিড়ম্বণার শিকার হতে হল। যদিও মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে কফিনটি যত্নসহকারে রক্ষিত হয়েছিল। কিন্তু যুগের পর যুগ অতিক্রম হওয়াতে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকারীদের মৃত্যুতে ইস্রায়েলীরা এই কফিন সম্পর্কে একসময় সম্পূর্ণ অজ্ঞ হয়ে পড়েছিল।

ইস্রায়েলী নারীদের অধিকাংশ মূসার উপর কখনও পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেনি। তারা পরিবারের সঙ্গে দেশত্যাগে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল বটে, কিন্তু কখনও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে চায়নি যে, তাদের এই যাত্রা স্থায়ী। এ কারণে তারা চলে যাবার সময় মিসরীয়দেরকে তাদের নিজস্ব বিশ্বাস দ্বারা সহজে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল এবং বোঝাতে পেরেছিল যে, তারা স্থায়ীভাবে দেশত্যাগ করছে না, তারা কেবলমাত্র একটা ধর্মীয় উৎসব পালন করতে আদি বাসস্থানে যাচ্ছে এবং শীঘ্রই ফিরে আসবে। আর তারা তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য উপহার চেয়ে নিয়েছিল এই শর্তে যে, ফিরে এসে সেগুলি ফেরৎ দেবে। 

সকলের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। কেননা তারা উপলব্ধি করছিল তাদের মহা পরিবর্তনের সুযোগ এখন এসেছে। তাদের কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিবেদন করা প্রার্থনার উত্তর এতদিনে এসেছে, দীর্ঘ চার‘শ ত্রিশ বৎসরের বন্দীত্বের দিন আজ শেষ হয়েছে। অনেক কঠিন পরীক্ষা এখনও সামনে আছে তবে তারা এখন স্বাধীন এবং তারা ‘প্রতিজ্ঞাত দেশের’ পথে। 

যাত্রার জন্যে প্রস্তুত ইস্রায়েলীরা মহিলা ও শিশুসহ ছিল কয়েক লক্ষ। মূসা এই বিরাট দলকে তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে দ্রুত যাত্রার জন্যে সংগঠিত করেছিলেন। তারপর তিনি সকলকে নিয়ে রাতের প্রথম ভাগেই বেরিয়ে মরু এলাকার মধ্যে দিয়ে লোহিত সাগরের দিকে এগিয়ে চললেন। 

এ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত- ‘আমি অবশ্যই মূসার উপর এমর্মে প্রত্যাদেশ পাঠিয়েছিলাম, আমার দাসদের নিয়ে এ রাতেই বেরিয়ে পড়, আর ওদের জন্যে সাগরের মাঝখানে কোন শুকনো পথ অবলম্বণ কোরও। ভয় পেয় না যে, কেউ পিছন থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলবে, ঘাবড়ে যেও না।’(২০:৭৭)

গোষণ থেকে কনানে যাবার পথ ছিল ভূমধ্যসাগরের তীর দিয়ে উত্তর পূর্বদিকে। এই পরিচিত পথ সাধারণতঃ ভ্রমনকারীরা ব্যাবহার করত। মূসার অনুসারীরা এ পথে গেল না, কেননা এ পথ সরাসরি তাদেরকে অমালেকীয়দের দেশে নিয়ে যেত। যারা একটি অসভ্য, মূর্ত্তি পূজক, ভয়ঙ্কর, হিংস্র ও যুদ্ধপ্রিয় উপজাতি ছিল। অনভিজ্ঞ ইস্রায়েলীদের তাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্তুতিসহ এই অমালেকীয়দের অঞ্চলে প্রবেশ করার অর্থ মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তদুপরি আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণে মূসা এই পরিচিত পথ পরিত্যাগ করেছিলেন-তা হল আল্লহর নির্দেশ।
প্রথম দিনের যাত্রায় ইস্রায়েলীরা রামেসিস থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত সুক্কোতে পৌঁছে। আর পরের দিন তারা পৌঁছে গেল এথনে। আর আল্লাহ দিনে ও রাতে তাদের পরিচালনা দিতে লাগলেন। ইস্রায়েলীদের সূর্য্য তাপের কষ্ট লাঘবের জন্যে দিনে একখন্ড মেঘ তাদের মাথার উপর ছায়া বিস্তার করত, আর রাতে একটা অগ্নি স্তম্ভ বৎ মেঘ তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেত।

এ সম্পর্কে যবুরে আছে-
পরে তিনি লোকদেরকে রৌপ্য ও স্বর্ণসহ বের করে আনলেন,
গোষ্ঠিদের মধ্যে একজনও উঁছোট খায়নি।
তাদের প্রস্থানে মিসরে বইল আনন্দ, কারণ ওরা হয়েছিল ত্রাসাপন্ন।
তিনি সূর্য্য তাপের জন্যে মেঘ বিস্তার করলেন, 
রাত্রি আলোকময় করণার্থে অগ্নিস্তম্ভ দিলেন। (১০৫:৩৭-৩৯)

আল্লাহর নির্দেশে মূসা ইস্রায়েলীদেরকে লোহিত সাগরের উত্তর দিকের শেষপ্রান্ত না ঘুরিয়ে বরং সম্মুখ পানে সাগরের দিকে নিয়ে চললেন।

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন