pytheya.blogspot.com Webutation

৬ মার্চ, ২০১২

Muhammad: মুহম্মদের শৈশবকাল।



আরবের প্রথা অনুযায়ী জন্মের সপ্তম দিনে আব্দুল মুত্তালিব আত্মীয়-স্বজনকে মুহম্মদের আকিকা উৎসবে যোগদানে আহবান করেন। অত:পর আপ্যায়ন শেষে কুরাইশ গোত্র প্রধানেরা আব্দুল মুত্তালিবকে শিশুর নাম জিজ্ঞেস করলে তিনি উৎফুল্লতার সঙ্গে উত্তর করলেন, ‘মুহম্মদ’ (Muhammad)। 
সমবেত স্বজনরা এমন নাম শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘মুহম্মদ! এমন নাম তো আমরা কখনও শুনিনি! দেবতার সঙ্গে নাম মিলিয়ে রাখলেন না কেন?’ 
বৃদ্ধ বললেন, ‘আমার এই নাতিটি বিশ্ববরেণ্য হোক, এর মহিমা ও প্রশংসা পরিকীর্তিত হোক- তাই এই নাম রেখেছি।’ 
সকলে শিশুকে আশীর্বাদ করে বিদায় নিল। 
মুহম্মদের জন্মস্থান।
বিবি আমিনা গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে দেখেছিলেন- এক স্বর্গীয় দূত এসে তাকে বলছেন- ‘তোমার গর্ভে এক অসাধারণ সন্তান এসেছে। তুমি তার নাম রেখ আহমদ।’ এই অনুসারে আমিনা তার পুত্রের নাম রাখলেন- আহম্মদ। মুহম্মদ ও আহম্মদ এই উভয় নামই মুহম্মদের বাল্যকাল হতেই প্রচলিত ছিল। কোরআনে এই উভয় নামেরই উল্লেখ আছে-
‘আল্লাহর রসুল আহম্মদ এবং যে সকল লোক ঈমান এনেছে’
‘মুহম্মদ একজন প্রেরিত বৈ আর কিছুই নহে।’(৩:১৪৪)

আরবে প্রচলিত ছিল কোন সম্ভ্রান্ত পরিবারে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে স্তন্যপান ও লালন পালনের ভার ধাত্রীর হাতে ন্যস্ত করা হত। এজন্যে অবশ্য ধাত্রীরা উপযুক্ত পারিশ্রমিকও পেত। এই প্রথা অনুযায়ী হাওয়াজিন শাখার বনি সাদ গোত্রের হালিমা নাম্মী এক বেদুইন মহিলার কাছে শিশু মুহম্মদের লালন-পালনের ভার দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে যখন এই বেচারী বেদুইন রমনী কুরাইশদের দ্বারা বন্দী হয়ে মক্কায় আনীত হয়েছিল তখন মুহম্মদ আনন্দ-উদ্বেল সাশ্রু নয়নে তাকে চিনেছিলেন এবং তার সম্পদশালীনী স্ত্রীর কাছ থেকে ধাত্রী মায়ের মুক্তিপণ সংগ্রহ করেছিলেন।

মুহম্মদ জন্মের পর প্রথম দু’তিন দিন মাতৃদুগ্ধ পান করে। তারপর আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবার দুধপান করে। সুওয়াইবা অল্প সময়ের জন্যে তাকে দুধপান করিয়েছিলেন। পিতৃব্য পরিবারের একটি লাঞ্ছিতা, উপেক্ষিতা, ক্রীতদাসী, জগতের সমস্ত নির্মম ও কঠোর দূর্ব্যাবহার সহ্য করার জন্যে যার জন্ম তার জন্যে মুহম্মদের ভক্তি শ্রদ্ধা ছিল অসীম। মদিনায় হিযরতের পূর্বে বিবি খাদিজার আনুকূল্যে তিনি এই সুওয়াইবাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু আবু লাহাব সম্মত হননি। মদিনায় হিযরতের সময় পর্যন্ত মুহম্মদ প্রায়ই তার জন্যে উপহার সামগ্রী পাঠাতেন। খায়বর বিজয় শেষে প্রত্যাবর্তনের সময় মুহম্মদ জানতে পারলেন সুওয়াইবা মারা গেছেন। তখন তিনি তার পুত্র মাসরূহের কুশল জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন মাতার পূর্বেই তার মৃত্যু ঘটেছে। আর সুওয়াইবার স্বজন বলে কেউই বিদ্যমান নেই।
মুহম্মদের জন্ম।
প্রচলিত প্রথার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে মাঝে মাঝে ধাত্রী ব্যবসায়ী রমণীরা প্রতিপাল্য শিশু সন্তানের আশায় মক্কা শহরে আসত। প্রভাবশালী ঘরের শিশুদের প্রতি তাদের আগ্রহ থাকত বেশী। এ কারণে তাদের কেউই এতিম মুহম্মদকে নিতে চায়নি, তার মাতা তাদেরকে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে পারবেন কিনা এই আশঙ্কায়। অপেক্ষাকৃত ধনী গৃহের সন্তানের প্রতিই এসব ধাত্রীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল। হালিমা নাম্নী এক ধাত্রী তার বাহন দুর্বল থাকার কারণে কাফেলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একসাথে পৌঁছিতে পারেননি। তদুপরি তার অবস্থা দেখে কোন ধনী গৃহের সন্তান তার কাছে সোপর্দ করতেও রাজী হয়নি। ধাত্রীরা সবাই তাদের মনের মত একটি করে শিশু পেল। হালিমার জন্যে মুহম্মদ ছাড়া অন্য কোন শিশু রইল না। হালিমা তার স্বামী হারিসকে ডেকে বললেন, ‘হে স্বামীন! শুণ্য হাতে ফিরে গিয়ে কি লাভ? এই এতিম শিশুটিকেই গ্রহণ করি, কি বল?’
স্বামী উত্তর দিলেন, ‘নিশ্চয়ই! মুহম্মদকেই গ্রহণ কর। হয়তঃ এর মাধ্যমে আমাদের নসীব বুলন্দ হতে পারে।’ 
মুহম্মদের লালন-পালনের ভার হালিমার হাতেই অর্পিত হল। 

হালিমা ছিলেন বনি সা’দ গোত্রের মেয়ে। তারা বিশুদ্ধ প্রাঞ্জল আরবী ভাষায় কথা বলার জন্যে সুপরিচিত ছিল। যাহোক, হালিমার ছিল তিনকন্যা- আনিসা, হুজায়ফা ও সুমাইয়া (শায়মা) এবং একপুত্র আব্দুল্লাহ। এদের মধ্যে সুমাইয়া ও আব্দুল্লাহ পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। 

হলিমাদের অবস্থা বিশেষ ভাল ছিল না আর বৎসরটিও ছিল খারাপ। তাদের ছিল একটি গাধা, একটি বয়স্ক উট, কিছু বকরী ও কয়েকটি মহিষ। খরার কারণে উট ও মহিষেরা কোন দুধ দিচ্ছিল না। অন্যদিকে অনাহারে, অর্ধাহারে থাকায় কারণে হালিমার বুকেও তেমন দুধ ছিল না। ফলে শিশুপুত্র আব্দুল্লাহর ক্রন্দনে তারা বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছিলেন। এরূপ অবস্থায় শিশুপুত্রসহ হালিমা গাধার পিঠে এবং তার স্বামী উটে সওয়ার হয়ে কাফেলার সঙ্গে শিশু সন্তানের সন্ধানে মক্কায় আগমন করেছিলেন। 

মুহম্মদকে গ্রহণ করে তারা কাফেলার কাছে ফিরে এলেন। হালিমা অনুভব করলেন তার বুকে দুধ এসেছে। তিনি দু‘টি শিশুকেই তা পান করালেন। তারা তৃপ্তিতে পান করল ও ঘুমিয়ে পড়ল। এদিকে হারিস উটটি দোহন করেও প্রচুর দুধ পেলেন। ফলে রাতটা তাদের ভালই কাটল। সকালবেলা স্বামী-স্ত্রী বিষ্ময়ের সাথে বিষয়টি আলোচনা করলেন। অবশেষে হারিস বললেন, ‘হে হালিমা! জেনে রেখ, তুমি এক মহাকল্যাণময় শিশু এনেছ!’ 
হালিমা বললেন, ‘বাস্তবিকই আমারও তাই মনে হয়।’

তারা বাড়ীর উদ্দেশ্যে কাফেলার সাথে রওনা দিলেন। হালিমার গাধা কাফেলাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল। তার সহযাত্রীনীরা বলতে লাগল, ‘হে আবু জুবাইয়ের কন্যা! একটু দাঁড়াও এবং আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর। এটা কি তোমার সেই গাধা নয়, যেটার পিঠে চড়ে তুমি এসেছিলে?’
হালিমা বললেন, ‘হ্যাঁ, সেটাই তো!’ 
তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম; এখন তো দেখছি এর অবস্থাই পাল্টে গেছে।’

হালিমাদের গৃহ।
অবশেষে মুহম্মদকে নিয়ে দীর্ঘপথ পরিক্রমণ শেষে বাড়ীতে এসে পৌঁছিলেন হালিমারা। একটি পাহাড়ের একপাশে সমতলভূমির কাছে হালিমাদের গুহাকৃতির তিনটি ঘর- একটি বড় দু‘টি ছোট। আশেপাশে সব ফাঁকা। দূরে অন্য পাহাড়ে কিছু জনবসতি। 

হালিমাদের এই ঘরগুলো সাধারণ ঘরের মত নয়। মাটির উপর দু‘আড়াই ফুট দেয়াল। তাতে ছোট ছোট জানালা। ভাঙ্গা পাথর একটার পর একটা সাজিয়ে কাদামাটি দিয়ে লেপে তৈরী করা হয়েছে দেয়াল। ছোট ঘর দু‘টির প্রতিটির আয়তন বড়জোর ৫০ বর্গফুট। ভূমি থেকে দেয়াল যতটা উঁচু ভিতরে সেই পরিমাণ গর্ত। গুহার মত দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে ছাদে মাথা ঠেকে যায়। দরজা এবং ছাদে গাছের ডাল ব্যাবহার করা হয়েছে। হালিমার সন্তানদের সাথে মুহম্মদ এই দু‘টি ঘরের একটিতে থাকতেন। 

মুহম্মদকে নিয়ে আসার পর প্রতিদিন হালিমাদের পশুগুলো খেয়ে পরিতৃপ্ত এবং পালান ভর্তি দুধ নিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরতে লাগল। গোত্রের অন্যান্যরা তাদের পশু থেকে তেমন দুধ পেত না। তারা তাদের রাখালদের বলতে লাগল, ‘আবু জুবাইয়ের কন্যার রাখাল যেখানে মেষ চরায়, সেখানে তোমরা চরাতে নিয়ে যাবে।’ 

এতেও তাদের পশুরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফিরতে লাগল, ফলে তারা তেমন দুধ দিত না। অন্যদিকে হালিমার সংসারে ক্রমেই প্রাচুর্য ফিরে এল। 

দু’বৎসর অতিবাহিত হল। অতঃপর হালিমা ও তার স্বামী চুক্তিমত মুহম্মদকে তার মায়ের কাছে নিয়ে গেলেন। তবে তারা তাকে কাছে রাখতেই বেশী উৎগ্রীব ছিলেন। সুতরাং আমিনাকে হালিমা বললেন, ‘আপনি যদি আপনার সন্তানকে আমার কাছে আরও কিছুদিন থাকতে দিতেন, তাহলেই ভাল হত। আমার আশঙ্কা হয় মক্কার রোগ-ব্যাধিতে সে আক্রান্ত হতে পারে।’ 
মাতা আমিনার অনুমতিতে তারা মুহম্মদকে পুনঃরায় ফিরিয়ে নিয়ে এলেন।

মুহম্মদ একদিন দুধভাইয়ের সঙ্গে বাড়ীর কাছেই মেষ চরাচিছল। এসময় বালকদের কয়েকজন ছুটে এসে হালিমাকে বলল যে, তাদের কুরাইশ ভাই অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। হালিমা  ও তার স্বামী তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দেখলেন, মুহম্মদ বিবর্ণ ও ভীত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে আছে কিন্তু জ্ঞান হারায়নি। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেও কোন মনঃপুত জবাব না পেয়ে ধারণা করলেন সে আবিষ্ট হয়েছে। হালিমার স্বামী হারিস বললেন, ‘হে হালিমা! আমার আশঙ্কা এই- তার উপর কোন কিছুর আছর হয়েছে। সুতরাং কোন ক্ষতি হবার আগেই তাকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দাও।’ 

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরিয়ে দেবার জন্যে তাই হালিমা মুহম্মদকে তার মা আমিনার কাছে নিয়ে গেলেন। আমিনা বললেন, ‘হে ধাত্রী ভগ্নি! তুমি তো ওকে কাছে রাখতেই খুব উদগ্রীব ছিলে, কি হয়েছে যে ওকে নিয়ে এলে?’ 
হালিমা সামান্য ইতস্ততঃ করে বললেন, ‘আল্লাহ আমাকে দু’টি সন্তানের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার যা করণীয় ছিল তা আমি করেছি। কোন অঘটন ঘটবে বলে আমার আশঙ্কা হয়। এই নিয়ে আমার চিন্তার অন্ত নেই। তাই আপনার সন্তানকে ভালোয় ভালোয় আপনার হাতে তুলে দিলাম।’ 
আমিনা বললেন, ‘তুমি যা বলছ তা প্রকৃত ঘটনা নয়। আসল ব্যাপারটা কি আমাকে সত্যি করে বল।’ 
হালিমা ঘটনা বর্ণনা করলেন।

সব শুনে আমিনা বললেন, ‘তাহলে তুমি মনে করছ যে, আমার পুত্রের উপর জ্বীনের আছর হয়েছে?’ 
তিনি উত্তর করলেন, ‘হ্যাঁ, সেরূপই মনে হয়।..’
আমিনা বাঁধা দিলেন, ‘অসম্ভব! তার উপর জ্বীনের আছর হতে পারে না।’ বুকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি তার সন্তানকে, বললেন, ‘আমার সন্তানের মধ্যে একটা পবিত্রভাব লুকিয়ে আছে, এ সেই ভাবেরই প্রকাশ। তুমি একে নির্দ্বিধায় রেখে যেতে পার।’ 
পাঁচ বৎসরের মুহম্মদকে হালিমা তার মাতার কাছে রেখে ফিরে গেলেন।

মুহম্মদ তার মা আমিনার অপত্য স্নেহে লালিত-পালিত হতে লাগলেন। তার বয়স যখন ছয় বৎসর তখন আমিনা শ্বশুর আব্দুল মুত্তালিবের অনুমতিতে সন্তানকে সঙ্গে করে মদিনা বেড়াতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন। দাসী আয়মন তাদের সঙ্গে গেল।

স্বামীর কবর জিয়ারত শেষে ও কিছুদিন মদিনায় কাটিয়ে একসময় আমিনা মক্কার পথে রওনা দিলেন। পথিমধ্যে (মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী) আবওয়া নামক স্থানে পৌঁছে আমিনা হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন এবং মারা গেলেন। স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে মাকে সেখানেই দাফন করে দাসী আয়মনের সাথে মুহম্মদ মক্কায় ফিরে এলেন।

মায়ের মৃত্যূতে পিতৃমাতৃহীন শিশু মুহম্মদের লালন-পালনের ভার পড়ল পিতামহ আব্দুল মুত্তালিবের উপর। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন অতিশয় আদর যত্ন সহকারে পৌত্রের দেখাশুনা করেছিলেন।

মুহম্মদ জন্মগ্রহণের পূর্বেই পিতাকে হারিয়ে ছিলেন। যখন তার বয়স মাত্র ছয় বৎসর তখন মাতাকে হারালেন। এই অপূরণীয় ক্ষতি সংবেদনশীল শিশুমনের উপর গভীর রেখাপাত করেছিল। তারপর যখন তার বয়স আট বৎসর, তিনি তার পিতামহ আব্দুল মুত্তালিবকেও হারালেন।

৫৭৯ খ্রীষ্টাব্দের দিকে আব্দুল মুত্তালিব সানা থেকে প্রত্যাবর্তনের অল্প কিছুদিন পরে মাত্র কয়েক দিনের অসুখে ৮২ বৎসর বয়সে মারা গেলেন। পারস্যিকদের সাহায্যে জুল-ইয়েজদেনের পুত্র সায়েফের তোব্বাসের সিংহাসনে আরোহণ উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জ্ঞাপনের জন্যে কুরাইশদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
মৃত্যু শয্যায় আব্দুল মুত্তালিব মুহম্মদের লালন-পালনের ভার পুত্র আবু তালিবের উপর ন্যস্ত করলেন।

মুহম্মদ ছিলেন মিষ্টভাষী ও কোমল স্বভাবের এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতি অত্যধিক সংবেদনশীল। মরুভূমির এই পবিত্র হৃদয় সন্তান তার ক্ষুদ্র পরিচিত মহলে অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। চাচা আবু তালিবও তাকে অত্যধিক স্নেহ করতেন।

মুহম্মদের প্রথম জীবন পরিশ্রমের ভারমুক্ত ছিল না। চাচার মেষপাল চরাতে তাকে প্রায়ই মরুভূমিতে যেতে হত। হাশিম ও আব্দুল মুত্তালিবের রাজকীয় ঐশ্বর্য্য তাদের উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে প্রভূত পরিমানে হ্রাস পায় এবং অর্থাভাবের দরুণ হাশিমীয়রা তাদের নেতৃত্ব দ্রুত হারাতে থাকেন। ইতিমধ্যে তীর্থযাত্রীদের খাদ্য সরবরাহের দায়িত্ব বিরোধী উমাইয়াদের হাতে ন্যস্ত হয়েছিল, যারা সর্বদা হাশিমের সন্তানদের প্রতি চরম ঈর্ষা পোষণ করতেন।

সমাপ্ত।
ছবি: islamicsupremecouncil, religionfacts.com, makkah-and-madina.blogspot

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন