pytheya.blogspot.com Webutation

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

Laws of Inheritance: পিতামাতার সম্পত্তিতে কন্যাদের অংশ রয়েছে- এটা নির্ধারিত।


পূর্বকালে আরব ও অনারব জাতিসমূহের মধ্যে দুর্বল শ্রেণী, এতিম বালক বালিকা ও অবলা নারী চিরকালই জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ছিল। তাদের কোন অধিকারই স্বীকার করা হত না, আর স্বীকার করা হলেও পুরুষদের কাছ থেকে তা আদায় করে নেবার সাধ্য কারও ছিল না। আরবদের নিয়ম ছিল, যারা অশ্বারোহণ করে এবং শত্রুদের মোকাবেলা করে বা তাদের অর্থ সম্পদ লুট করার যোগ্যতা রাখে, তারাই শুধূমাত্র উত্তরাধিকারের যোগ্য হতে পারে। সুতরাং নারী ও বালক-বালিকা যেহেতু দুর্বল শ্রেণী, সেহেতু তারা ঐ নিয়মের আওতায় পড়ত না। কোরআন এসব শ্রেণীকে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রদান করল।

আওস ইবনে সাবেত নামক জনৈক মুসলমান স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক নাবালগ পুত্র রেখে মৃত্যুবরণ করলেন। প্রাচীন রীতি অনুসারে তার চাচাত দু‘ভাই এসে তার সম্পত্তি দখল করে নিল। তখন স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে আওসের স্ত্রী  নাবালগ পুত্র ও দু‘কন্যা নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়লেন। তিনি তখন ঐ চাচাত ভাইদেরকে প্রস্তাব দিলেন যারা তার স্বামীর বিষয় সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে, যেন তার কন্যাদ্বয়কে তারা বিবাহ করে নেয়, যাতে তিনি কন্যাদের চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত হতে পারেন। কিন্তু তারা এই প্রস্তাবে স্বীকৃত হল না। তখন আওসের স্ত্রী মুহম্মদের কাছে এসে তার অবস্থা বর্ণনা করলেন এবং সন্তানদের অসহায়ত্ব ও বঞ্চনার অভিযোগ উত্থাপন করলেন। 

এ সম্পর্কিত কোন আয়াত তখন পর্যন্ত অবতীর্ণ না হওয়াতে মুহম্মদ সিদ্ধান্ত দিতে দেরী করলেন। অতঃপর উত্তরাধিকার সম্বলিত এই আয়াত অবতীর্ণ হল- 
পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদেরও অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে; অল্প হোক কিম্বা বেশী। এ অংশ নির্ধারিত।(৪:৭)

এর পরপরই উত্তরাধিকার আইন (Laws of Inheritance) সম্বলিত অন্যান্য আয়াত অবতীর্ণ হল-আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেন: একজন পুরুষের অংশ দু‘জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু‘য়ের অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দু‘ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্যে থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের একভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের একভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের একভাগ ওসিয়্যতের পর, যা করে মরেছে বা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে তবে তোমাদের হবে এক চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওসিয়্যতের পর, যা তারা ত্যাগ করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক চতৃর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওসিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র এবং স্ত্রী না থাকে এবং এ মৃতের এক ভাই কিম্বা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে। আর যদি ততধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশের অংশীদার হবে ওসিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। (৪:১১-১২)

আল্লাহ তোমাদেরকে কালালাহ এর মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন; যদি কোন পুরুষ মারা যায় এবং তার কোন সন্তানাদি না থকে এবং এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং সে যদি নিঃসন্তান হয়, তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। দুই বোন থাকলে তাদের জন্যে পরিত্যাক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। পক্ষান্তরে যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর সমান। তোমরা বিভ্রান্ত হবে বলে আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত।(৪:১৭৬)

এ সকল আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর মুহম্মদ আওসের মোট ত্যাজ্য সম্পত্তির আট ভাগের একভাগ স্ত্রীকে দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তি তার পুত্র ও কন্যাদের মধ্যে এভাবে বন্টন করলেন যে, অর্ধেক পুত্র এবং কন্যাদ্বয় সমান হারে পেল। আওসের চাচাত ভাই তার সন্তানদের তুলনায় নিকটবর্তী ছিল না, তাই তাদেরকে বঞ্চিত করা হল।

সমাপ্ত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন