pytheya.blogspot.com Webutation

২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

Shoaib: শোয়েব ও ধর্মদ্রোহী আইকাবাসীদের কাহিনী।



ইয়েমেনের মালভূমি বা জর্দানের পূর্বাঞ্চল হল মদিয়ান। তিন কোনাকার উপদ্বীপ পার হলে পূর্বদিকে আকাবা উপসাগরের কাছে পড়বে  অঞ্চলটি। ইব্রাহিম ও কটুরার বংশধর মদিনীয়রা এখানে বসবাস করত। এই অঞ্চলটি ছিল সমুদ্র তীরবর্তী এবং ঘনজঙ্গল সমৃদ্ধ। এ কারণে এই অঞ্চলের অধিবাসী বা মদিয়ান সম্প্রদায়কে বলা হত আইকাবাসী (-আইকা শব্দের অর্থ ঘনবৃক্ষরাজী শোভিত অঞ্চল)। এই মদিনীয়দের পাপাচারের দরুণ ঐশী রোষানল তাদের উপর বর্ষিত হয়েছিল। কারণ তারা ছিল অসৎ এবং বৃক্ষ ও দেব-দেবীদের পূজায়রত। লুতের সম্প্রদায়ের পর তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। কেবলমাত্র হযরত শোয়েব (Shoaib) ও তার অনুসারীসহ অল্পকিছু লোক ঐ গজব থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। 

মদিয়ানের ম্যাপ।
আল্লাহ আইকাবাসীদের কাছে সতর্ককারীরূপে হযরত শোয়েবকে পাঠিয়ে ছিলেন। শোয়েব তার সম্প্রদায়কে আহবান জানিয়েছিলেন সত্যের পথে। কিন্তু ফলাফল ছিল হতাশাজনক। তারা শোয়েবকে অস্বীকার করেছিল, ফলে ধ্বংস তাদের অনিবার্য পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়, যেমন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল অতীতে আ’দ ও সামুদ জাতি, লূত ও নূহের সম্প্রদায়। যতদূর জানা যায়, অবাধ্যদের উপর শাস্তি আরোপ হয়েছিল সর্বপ্রথমে নূহের সম্প্রদায়ের উপর। কারণ তার আমলে জ্ঞানের প্রসার যথেষ্ট হয়েছিল এবং আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে মানুষের কাছে কোন অস্পষ্টতা ছিল না। আর এসব ধ্বংস ছিল এ কারণে যেন রসূলদের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষের জন্যে না থাকে। এ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াত-সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শণকারী রসূলদের প্রেরণ করেছি যাতে রসূলদের পরে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করার মত কোন অবকাশ মানুষদের জন্যে না থাকে। আল্লাহ প্রবল পরাক্রমশালী, প্রাজ্ঞ।(৪:১৬৫)  

মদিয়ানবাসীদের প্রতি শোয়েবের আহবান ছিল এমন-‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন উপাস্য নেই। তোমরা মাপে ও ওজনে কম কোরও না। আমি তোমাদের সমৃদ্ধি দেখেছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্যে এক সর্বগ্রাসী দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি। হে আমার সম্প্রদায়! মাপ ও ওজন ন্যায্যভাবে দেবে। লোককে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়োনা ও পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিও না। যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে আল্লাহর অনুমোদিত যা থাকবে তোমাদের জন্যে তা ভাল। আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।’ 

ওরা বলল, ‘হে শোয়েব! তোমার নামাজ কি নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যার উপাসনা করত আমরা তাকে ছেড়ে দেব, আর ধন-সম্পদ সম্পর্কে আমরা যা খুশী করতে পারব না? তুমি তো এক ধৈর্য্যধারী সদাচারী।’

তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি, আর তিনি যদি তার কাছ থেকে আমাকে ভাল জীবিকা দিয়ে থাকেন তবে কি করে আমি আমার কর্তব্য থেকে বিরত থাকব? আমি তোমাদেরকে যা নিষেধ করি আমি নিজে তা করতে ইচ্ছে করিনে। আমি আমার সাধ্যমত সংস্কার করতে চাই। আমার কাজ তো আল্লাহর সাহায্যে, আমি তাঁরই দিকে মুখ ফিরিয়েছি।
হে আমার সম্প্রদায়! আমার সাথে মতে অমিল যেন কিছুতেই তোমাদের এমন ব্যাবহার না করায় যেন তোমাদের উপর তেমন (শাস্তি) পড়বে, যা পড়েছিল নূহের সম্প্রদায়ের উপর, আর হুদের সম্প্রদায়ের উপর বা সালেহর সম্প্রদায়ের উপর; আর লুতের সম্প্রদায় তো তোমাদের থেকে দূরে না। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে ফিরে যাও। আমার প্রতিপালক তো পরম দয়ালু, প্রেমময়।’

ওরা বলল, ‘হে শোয়েব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝিনে, আর আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বল দেখছি, তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতাম। আমাদের চেয়ে তুমি তো শক্তিশালী নও।’

তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনবর্গ আল্লাহর চেয়ে বেশী শক্তিশালী? তোমরা তাকে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছ। তোমরা যা কর আমার প্রতিপালক তো তা ঘিরে রয়েছে। আর তোমরা বিশ্বাসীদের ভয় দেখানোর জন্যে পথে বসে থেক না, আল্লাহর পথে তাদেরকে বাঁধা দিয়োনা ও তার মধ্যে দোষ ত্রুটি খুঁজ না। স্মরণ কর, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন; আর লক্ষ্য কর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছে। আর আমার কাছে যা পাঠান হয়েছে তার উপর যদি তোমাদের কোন দল বিশ্বাস স্থাপন করে ও কোন দল বিশ্বাস না করে তবে ধৈর্য্য ধর, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন; আর তিনিই তো শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।’

তার সম্প্রদায়ের অহংকারী প্রধানেরা বলল, ‘আমাদের সমাজে তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। না এলে, হে শোয়েব! তোমাকে ও তোমাদের সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদেরকে আমাদের শহর থেকে বের করে দেবই।’ 

তিনি বললেন, ‘কি, আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও? তোমাদের সমাজ থেকে আল্লাহ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা সেখানে ফিরে যাই তবে তো আল্লাহর উপর মিথ্যে আরোপ করব। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছে না করলে সেখানে ফিরে যাওয়া আমাদের কাজ নয়। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের জানা। আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করি। হে আমার প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে মীমাংসা করে দাও; আর তুমিই মীমাংসাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’ 

আর তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসীরা বলল, ‘তোমরা যদি শোয়েবকে মেনে চল তবে তোমাদের ক্ষতি হবে।’
তিনি বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেমন করছ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করছি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার উপর আসবে অপমানকর শাস্তি, আর কে মিথ্যেবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।’
ওরা বলল, ‘তুমি তো একজন যাদুগ্রস্ত! তুমি আমাদেরই মত একজন মানুষ, আমরা মনে করি তুমি এক মিথ্যেবাদী। আর তুমি যদি সত্যিকথা বল তবে এক খন্ড আকাশ আমাদের ওপর ফেলে দাও।’

মদিয়ানবাসীদের প্রতি হযরত শোয়েবের আহবান সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- ‘মদিয়ানবাসীদের কাছে তাদের ভাই শোয়েবকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর। তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন উপাস্য নেই। তোমরা মাপে ও ওজনে কম কোরও না। আমি তোমাদের সমৃদ্ধি দেখেছি, কিন্তু আমি তোমাদের জন্যে এক সর্বগ্রাসী দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি। হে আমার সম্প্রদায়! মাপ ও ওজন ন্যায্যভাবে দেবে। লোককে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়োনা ও পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটিও না। যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তবে আল্লাহর অনুমোদিত যা থাকবে তোমাদের জন্যে তা ভাল। আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।’ 

ওরা বলল, ‘হে শোয়েব! তোমার নামাজ কি নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা যার উপাসনা করত আমরা তাকে ছেড়ে দেব, আর ধন-সম্পদ সম্পর্কে আমরা যা খুশী করতে পারব না? তুমি তো এক ধৈর্য্যধারী সদাচারী।’

সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে বল, আমি যদি আমার প্রতিপালক প্রেরিত স্পষ্ট নিদর্শণে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি, আর তিনি যদি তার কাছ থেকে আমাকে ভাল জীবিকা দিয়ে থাকেন তবে কি করে আমি আমার কর্তব্য থেকে বিরত থাকব? আমি তোমাদেরকে যা নিষেধ করি আমি নিজে তা করতে ইচ্ছে করিনে। আমি আমার সাধ্যমত সংস্কার করতে চাই। আমার কাজ তো আল্লাহর সাহায্যে, আমি তাঁরই দিকে মুখ ফিরিয়েছি। 
হে আমার সম্প্রদায়! আমার সাথে মতে অমিল যেন কিছুতেই তোমাদের এমন ব্যাবহার না করায় যেন তোমাদের উপর তেমন (শাস্তি) পড়বে, যা পড়েছিল নূহের সম্প্রদায়ের উপর, আর হুদের সম্প্রদায়ের উপর বা সালেহর সম্প্রদায়ের উপর; আর লুতের সম্প্র্রদায় তো তোমাদের থেকে দূরে না। তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাঁর দিকে ফিরে যাও। আমার প্রতিপালক তো পরম দয়ালু, প্রেমময়।’

ওরা বলল, ‘হে শোয়েব! তুমি যা বল তার অনেক কথা আমরা বুঝিনে, আর আমরা তো আমাদের মধ্যে তোমাকে দুর্বল দেখছি, তোমার স্বজনবর্গ না থাকলে আমরা তোমাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতাম। আমাদের চেয়ে তুমি তো শক্তিশালী নও।’

সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনবর্গ আল্লাহর চেয়ে বেশী শক্তিশালী? তোমরা তাকে সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছ। তোমরা যা কর আমার প্রতিপালক তো তা ঘিরে রয়েছে।(১১:৮৪-৯৫) আর তোমরা বিশ্বাসীদের ভয় দেখানোর জন্যে পথে বসে থেক না, আল্লাহর পথে তাদেরকে বাঁধা দিয়োনা ও তার মধ্যে দোষ ত্রুটি খুঁজ না। স্মরণ কর, তোমরা যখন সংখ্যায় কম ছিলে, আল্লাহ তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন; আর লক্ষ্য কর বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছে। আর আমার কাছে যা পাঠান হয়েছে তার উপর যদি তোমাদের কোন দল বিশ্বাস স্থাপন করে ও কোন দল বিশ্বাস না করে তবে ধৈর্য্য ধর, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন; আর তিনিই তো শ্রেষ্ঠ মীমাংসাকারী।’

তার সম্প্রদায়ের অহংকারী প্রধানেরা বলল, ‘আমাদের সমাজে তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। না এলে, হে শোয়েব! তোমাকে ও তোমাদের সাথে যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদেরকে আমাদের শহর থেকে বের করে দেবই।’ 

সে বলল, ‘কি, আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও? তোমাদের সমাজ থেকে আল্লাহ আমাদেরকে উদ্ধার করার পর যদি আমরা সেখানে ফিরে যাই তবে তো আল্লাহর উপর মিথ্যে আরোপ করব। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছে না করলে সেখানে ফিরে যাওয়া আমাদের কাজ নয়। সবকিছুই আমাদের প্রতিপালকের জানা। আমরা আল্লাহর উপর নির্ভর করি। হে আমার প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে মীমাংসা করে দাও; আর তুমিই মীমাংসাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’ 
আর তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসীরা বলল, ‘তোমরা যদি শোয়েবকে মেনে চল তবে তোমাদের ক্ষতি হবে।’(৭:৮৬-৯০)

(শোয়েব বলল) হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেমন করছ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করছি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার উপর আসবে অপমানকর শাস্তি, আর কে মিথ্যেবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।’
ওরা বলল, ‘তুমি তো একজন যাদুগ্রস্ত! তুমি আমাদেরই মত একজন মানুষ, আমরা মনে করি তুমি এক মিথ্যেবাদী। আর তুমি যদি সত্যিকথা বল তবে এক খন্ড আকাশ আমাদের ওপর ফেলে দাও।’(২৬:১৮৫)

শোয়েবের সমাধি, জর্দান।
দুপুর বেলা। হঠাৎ করে প্রচন্ড গরম পড়তে লাগল। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে লোকদের কেউ কেউ নিজেদের গৃহ মধ্যে, অনেকে আবার জঙ্গলে আশ্রয় নিল। এসময় এক কালো মেঘ তাদেরকে ঢেকে ফেলল। মেঘের নীচ দিয়ে শীতল মৃদু বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। সবাই তখন এসে মেঘের নীচে সমবেত হল। এ মেঘ তো ধ্বংসকারী মেঘ, কিন্তু তারা তা জানে না।

অব:পর আল্লাহর আদেশ এল এবং সীমালংঘনকারীদেরকে এক মহাগর্জণ আঘাত করল; সাথে সাথে ঘনকাল মেঘ আগুনে রূপান্তরিত হয়ে তাদের উপর বর্ষিত হল। ওরা নিজেদের ঘরে-জঙ্গলে যে যেখানে ছিল সেখানেই উপুড় হয়ে শেষ হয়ে গেল এমনভাবে, যেন তারা সেখানে কখনও বসবাস করেনি। 

এই ধ্বংসের সময় শোয়েব তার নিজগৃহে অবস্থান করছিলেন। অতঃপর তিনি যখন তার সম্প্রদায়ের এ পরিণতি লক্ষ্য করলেন তখন তাদের দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও বললেন, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার প্রতিপালকের খবর আমি তোমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছি; আর তোমাদেরকে উপদেশও দিয়েছি। এরপর আমি এক ধর্মদ্রোহী সম্প্রদায়ের জন্যে কি করে আক্ষেপ করি।’
মদিয়ানবাসীদের পরিণতি সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতসমূহ- (আল্লাহ বলেন) যখন আমার নির্দেশ এল তখন আমি শোয়েব ও তার সঙ্গে যারা বিশ্বাস করেছিল তাদেরকে আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, তারপর যারা সীমালংঘন করেছিল তাদেরকে এক মহাগর্জণ আঘাত করল; তাই ওরা নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে শেষ হয়ে গেল; যেন তারা সেখানে কখনও বসবাস করেনি। জেনে রেখ, ধ্বংসই ছিল মদিয়ানবাসীদের পরিণাম; যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল সামুদ সম্প্রদায়।

সে (শোয়েব) তাদের দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিল ও বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার প্রতিপালকের খবর আমি তোমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছি; আর তোমাদেরকে উপদেশও দিয়েছি। এরপর আমি এক ধর্মদ্রোহী সম্প্রদায়ের জন্যে কি করে আক্ষেপ করি।’(১১:৯২-৯৭)

সমাপ্ত।
ছবি: Wikipedia.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন